নিউজটি শেয়ার করুন

বাইশারীতে বিদ্যুতের পরিশোধিত বিল বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

হাবিবুর রহমান সোহেল,নাইক্ষ্যংছড়ি: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঈদগাও অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানিসহ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে।

পরিশোধিত বিল, বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। পরবর্তী সেবা পেতে দ্বিগুণ টাকা জমা দিয়েও সেবা মিলছে না। ভৌতিক বিল করাসহ গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমন অভিযোগ ওইখানকার শতাধিক গ্রাহকের।

মোতাহের হোসেন ও আবদুর শুক্কুর জানান, ওই বিছিন্নকৃত লাইন পুনঃসংযোগ পেতেও গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এসব বিষয়ে অভিযোগ দিয়েও তারা সময়মতো কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কোনো বিষয়ে জানতে গেলে ভোক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খারাপ আচরণ করারও অভিযোগও বেশি রয়েছে।

স্থানীয় শামসুল আলম, শহিদুল্লাহ সহ অনেকে অভিযোগ করেন বলেন, গত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের বিদ্যুৎ বিল, বাইশারী বাজারের টেলিটক এজেন্ট ব্যবসায়ী এরশাদের মাধ্যমে যথাসময়ে পরিশোধ করেছেন। আর ওই পরিশোধিত বিলের কপি পিন নাম্বারসহ তাদের কাছে জমা রয়েছে। এতে করে, তাদের ওই বিদ্যুৎ বিগত ১ বছর ১১ মাস স্বাভাবিকভাবে চলে। তারা পরবর্তী বিলও যথাসময়ে পরিশোধ করে আসছে বলে জানান।

কিন্তু হঠাৎ গত এক সপ্তাহ আগে ইদগাও পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে সংযোগ বিছিন্ন করে দেয়। এরপর আবারও ঈদগাও পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে গেলে তারা অসৌজন্যমুলক আচারণ করে। তাদের ওই পরিশোধ কৃত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের বিল বাকী আছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। যার কারণে তাদের ওই সংযোগ বিছিন্ন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় এলাকায় পল্লি বিদ্যুত গ্রাহকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সচেতন মহল জানিয়েছেন, পল্লি বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী কোন মাসের বিল বকেয়া থাকলে তা পরবর্তী মাসের বিলের সাথে যোগ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া পর পর, ২/৩ মাস বিল পরিশোধ না করলে, সংযোগও বিছিন্ন করার কথা। কিন্তু ১ বছর ১১ মাস পরে পল্লি বিদ্যুতের এমন অভিযোগ, তাদের পরিকল্পিত প্রতারণা ও মোটা অংকের টাকা আত্বসাতের পায়তারা বলেছেন এলাকার হাজারও মানুষ।

এঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন বাইশারীবাসী।

এই বিষয়ে বাইশারী বাজারের টেলিটক এজেন্ট এরশাদ জানান, তাদের কাছে বিল পরিশোধের কপি ও পল্লি বিদ্যুৎ একাউন্টে টাকা জমা হওয়ার পিন নাম্বারসহ সব কিছু জমা রয়েছে। ওইসব বিদ্যুত অফিসের লোকজন সিন্ডিকেট করে মোটা অংকের টাকা আর্ত্বসাতের পায়তারা করছে।

কক্সবাজার পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী পরিচালক অভিশেখ রায় জানান, এই ঘটনার বিষয়ে অবগত আছি। এটি তাদের সার্ভারের সমস্যার কারণেও হতে পারে বলে জানান। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান এই কর্মকর্তা।