নিউজটি শেয়ার করুন

বাই বাই প্রচারণা, এবার ভোটের অপেক্ষা

সিপ্লাস প্রতিবেদক: শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৩২ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও প্রচার চালানো যাবে না।এই হিসাবে সোমবার(২৫ জানুয়ারি) রাত ১২টায় শেষ হয়েছে চসিক নির্বাচনের প্রচারণা।

এদিকে, শেষদিনে জমজমাট প্রচারণা চালিয়েছেন দুই সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) এদিন ভোটকেন্দ্রে অনুশীলন বা মক ভোটের আয়োজন করেছিল।

বিধি অনুযায়ী, কোনও নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোটের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ সমন্বিতভাবে ২৫ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা হতে ২৯ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনও ব্যক্তি কোনও জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনও মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে বা তাতে অংশ নিতে পারবেন না। ওই সময়ে কোনও আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবেন না। ভোটার বা নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত বা দায়িত্বরত কোনও ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। কোনও অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবেন না কেউ।

কেউ এ আইন ভঙ্গ করলে ন্যূনতম ছয় মাস ও অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এদিকে, সিটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতোমধ্যে ২৫ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নেমেছে।সোমবার থেকে ভোটের আগে ও পরে মোট ৪ দিন দায়িত্ব পালন করছেন তারা। তাদের পাশাপাশি মাঠে থাকছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা।

৪১০টি মোবাইল টিম ও ১৪০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টহল দেবেন।

এবারের চসিক নির্বাচনে সব বাহিনী মিলে মোট ১৪ হাজার ৩৭০জনের মতো ফোর্স নিয়োজিত থাকবে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ৭৬ জন। প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে।

সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন করে ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, বিজিবি ও র্যা্ব। ইভিএমের কারিগরি সহায়তায় প্রতি ভোটকেন্দ্রে দুজন করে অপারেটর নিয়োগ থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ঐবছরের ২৯ মার্চ ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও মহামারি করোনার কারনে ভোট গ্রহন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে ২৯২ দিন পর পুনঃ তফসিল ঘোষণা করে ভোট গ্রহনের নতুন দিন ধার্য করা হয়।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৮ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করে । ২১ দিনের উৎসবমুখর প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে আজ মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে চসিক নির্বাচনের প্রচারণা। ২৭ জানুয়ারি (বুধবার)সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএম এর মাধ্যমে এ নির্বাচনে ভোট গ্রহন করা হবে।

এবারের চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ৭জন, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১৬৮জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

মেয়র পদে লড়াই হবে মূলত নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শাহাদাতের মধ্যে।