সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যিনি এক দশক আগে একটি ছিনতাই ঘটনায় রেলওয়ের কর্মকর্তাকে হত্যারও আসামি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নগরীর লালদিঘীর পাড় থেকে বুধবার গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. মুছার (৫০) বাড়ি শিকলবাহায় হলেও থাকেন রাহাত্তারপুল বড় কবরস্থান এলাকায়।
বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বুধবার গভীর রাতে লালদিঘীর পাড় থেকে মুছাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“পুলিশের কাছে মুছা স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করে বলেছে পারিবারিক কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে।”
ওসি নেজাম জানান, রেলওয়ে কর্মকর্তা খুনের ঘটনায় প্রায় ১০ বছর কারাগারে থেকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামিনে ছাড়া পান মুছা। কারাগার থেকে বের হয়ে পরিবারের সাথে থাকলেও মুছা কোনো কাজ করতেন না। এ নিয়ে পরিবারে বিভিন্ন সময়ে ঝগড়া হতো।
“বুধবার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া লাগায় মুছা শীল দিয়ে তার স্ত্রী জ্যোৎস্নার মাথায় আঘাত করে। এসময় বাসায় থাকা তার পাঁচ বছর বয়েসী নাতনি সেটি দেখে ফেলায় তাকে বাথরুমে নিয়ে আটকে রাখে মুছা।
“মুছা শীলটি খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে স্ত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। মোবাইলটি পরে দুই হাজার টাকায় রেয়াজউদ্দিন বাজারে একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়।”।
ওসি বলেন, “মুছা জানিয়েছে, মোবাইল বিক্রির টাকা নিয়ে সে শহর ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কোথাও যেতে পারেনি।”
মুছাকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে বিক্রি করা মোবাইল ফোন এবং বাসায় খাটের নিচ থেকে শীলটি উদ্ধার করা হয় বলে ওসি জানান।
বুধবার নগরীর বাকলিয়া থানার পূর্ব রাহাত্তার পুল বড় কবরস্থান এলাকার বাসা থেকে জ্যোৎস্নার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জ্যোৎস্নার মেয়ে নিশো আক্তার বাকলিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, ২০১০ সালে পুরাতন রেল স্টেশনে এলাকায় রাস্তার ওপর ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন রেলওয়ে কর্মকর্তা আব্দুল হাই মজুমদার। মুছা ওই মামলার আসামি।
ওই মামলায় ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে কারাগারে ছিলেন তিনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামিনে ছাড়া পান।








