আড়াই মাস আগে আকদের পর আয়োজন করা বিয়ের অনুষ্ঠানে এক হাজার লোকের খাওয়া-দাওয়াও হয়, তারপর যৌতুক না পেয়ে কনে ফেলেই চলে গেলেন বরপক্ষের লোকজন।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানায় এই ঘটনায় মামলা হওয়ার আগে সোমবার রাতে ওই এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় বর সালাউদ্দিন অভি, তার বাবা মো. নুরুল আলম ও মা ফিরোজা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানিয়েছেন।
সালাউদ্দিন ও তার পরিবার বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক।
ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, পারিবারিকভাবে আড়াই মাস আগে সালাউদ্দিনের সাথে ওই কনের আকদ হয়। সোমবার মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে তুলে দেওয়ার দিন ছিল। সে উপলক্ষে রাতে বাকলিয়া এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়। ৫০০ বরপক্ষের অতিথিসহ অন্তত এক হাজার লোক খাওয়া-দাওয়া করেন সেখানে।
মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর কনেকে শ্বশুরবাড়ি নেওয়ার আগে সালাউদ্দিনের বাবা-মা তাদের তিন মেয়ের স্বামীদের জন্য তিনটি স্বর্ণের আংটি ও আসবাব বাবদ দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
“রাতের বেলায় দাবি অনুযায়ী ওই টাকা ও আংটি দিতে না পারায় পরে তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল মেয়ের বাবা। এলাকার লোকজনও ছেলে পক্ষকে আশ্বাস দেয় যে, আপাতাত মেয়েকে যেন শ্বশুর বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে তাদের দাবি করা টাকা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ছেলের পরিবার তাদের দাবিতে অনড় থেকে মেয়েকে না নিয়ে বিয়ের আসর থেকে চলে যায়,” বলেন ওসি নেজাম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ছেলেপক্ষের চাহিদা অনুসারে তিন ধরনের ফার্নিচার তৈরি করা হয়েছিল। বাকিগুলো এখনও তৈরি হয়নি এবং পরবর্তীতে তা পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন মেয়ের বাবা।
“কিন্তু ছেলের মা-বাবা তাদের তিন মেয়ের জামাইয়ের জন্য তিনটি আংটি ও বাকি ফার্নিচারের জন্য দুই লাখ টাকার দাবিতে অনড় ছিলেন।”

