রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চন্দ্রঘোনা থানা এলাকার বাগান বাড়ি থেকে চাঞ্চল্যকর নুরুল আলম অপহরণ ও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় আব্দুস সালাম (৬০) নামের এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরের খিল পাহাড়ী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ। তিনি ওই এলাকার নজির আহমদের পুত্র।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর অপহরণের ৬৩ ঘণ্টা পর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে উদ্ধার হয়েছিল নুরুল আলম। তার বাড়ি রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নে। এরআগে গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর অস্ত্রের মুখে চন্দ্রঘোনা থানার ধলিয়া মুসলিম পাড়ার ‘মিম কৃষিজীবী খামারে’ ঢুকে নুরুল আলমকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ দিন আগে আব্দুস সালামসহ আরও বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে রাউজান উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আলমকে (৩৫) অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়। ঘটনার নেপথ্য নায়ক ছিল গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম বাবা নামে এলাকায় পরিচিত। তাঁর পরিকল্পনায় সংঘবদ্ধ স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র নুরুল আলমকে তাঁর খামার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরে মোটা অংকের মুক্তিপণের বিনিময়ে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
অপহরণের ঘটনায় নুরুল আলমের ভাই মো. কুতুব উদ্দিন গত ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসীকে আসামি করে চন্দ্রঘোনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় রাঙ্গুনিয়ার দাগী সন্ত্রাসী একাধিক ডাকাতি, অপহরণ ও অস্ত্র মামলার আসামি এমদাদ এ ঘটনায় জড়িত। এমদাদ পদুয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের আব্দুল নবীর ছেলে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম অপহরণ ঘটনার মূল নায়ক। তাঁর মাধ্যমেই মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছাড়া হয়েছে অপহৃত নুরুল আলমকে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এই সালাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে খুন,চাদাবাজি,ডাকাতি সহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সরফভাটায় ঘটে যাওয়া দুই দুইটা খুনের সাথে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এলাকার সন্ত্রাসী গ্রুপ তোফায়েল- কামাল গ্যাঙয়ের মূল অস্ত্রের যোগানদার এই সালাম বলে অভিযোগ আছে এলাকায়। সালামের অত্যাচারে শতাধিক পরিবার এলাকাছাড়া হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে । সালামের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সম্পর্কে সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীর সাথে সিপ্লাস প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সরফভাটায় গত কুরবানীর সময় প্রায় শতাধিক গরু চুরির ঘটনায় এই সালাম জড়িত। সে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। রাঙ্গুনিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ তোফায়েল-কামাল গ্যাংয়ের অন্যতম সদস্য এই সালাম।
সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া আলোচিত হত্যাকাণ্ড মুফিজ হত্যায় সে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এলাকার এক চোরকে রাতের আঁধারে হত্যা করে রাস্তার ধারে ফেলে রাখে এই সন্ত্রাসী সালাম ও তার দল। সে স্থানীয় নিরিহ লোকজনদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ চাঁদাবাজি করেছে। তাকে চাঁদা দিতে না পেরে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়েছে। এই ভয়াবহ সন্ত্রাসীর আশ্রয়দাতাদের খুঁজে বের করতে তিনি রাঙ্গুনিয়ার প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
নুরুল আলম অপহরণের ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান চন্দ্রঘোনা থানার ওসি ইকবাল।

