সিপ্লাস প্রতিবেদক: বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের জন্য থোক বরাদ্ধ রাখা, পূর্বের মত রেসনিং ব্যবস্থা চালু করে শ্রমজীবী মানুষের জন্য চাল-ডাল-তেলসহ নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস।
পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের গতি বৃদ্ধি করে বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সম্বলিত শ্রম আইন সংশোধন করার দাবি জানায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
রোববার (২৭ জুন) দুপুরে বিল্স-এর ২০২১ সালের অর্ধবার্ষিক কার্যক্রম অবহিতকরণ, চট্টগ্রামের শ্রমজীবী ও নাগরিক সমাজকে, চট্টগ্রামের শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সরকার ঘোষিত বজেটে শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব দাবি জানান।
সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিল্স পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রামের সভাপতি তপন দত্ত।
এতে বক্তব্য রাখেন বিল্স’র চেয়ারম্যান এ এম নাজিম উদ্দিন, সদস্য সচিব মু. শফর আলী, ও বিল্স’র সিনিয়র কর্মকর্তা পাহাড়ী ভট্টাচার্য।

সংবাদ সন্মেলনে বলা হয়, দেশে শিল্প-সেবা ও কৃষিখাতে সাড়ে ৬ কোটি শ্রমিক জড়িত। এরমধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৮৬ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে মাত্র ১৪ শতাংশ শ্রমিক। করোনাকালে অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের একটি বড় অংশ কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ নির্মাণ শ্রমিক, কমিউনিটি সেন্টার-কনভেনসন হল, ডেকোরেটর হলে কর্মরত শ্রমিক কয়েক লাখ। এছাড়া হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক কর্মচ্যূত হয়েছে।
দেশের সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে কৃষি শ্রমিক, বিদেশে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিক আর গার্মেন্টস শ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে। করোনার কারণে শ্রম আদালত কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় এবং মিছিল-মিটিং, আন্দোলন-সংগ্রাম বন্ধ থাকার সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে মালিকরা। শ্রমিকদের বিনা ক্ষতিপূরণে চাকরিচ্যূত করে কারখানা থেকে বের করে দিচ্ছে। কেভিডের আগে দেশের ১২ শতাংশ লোক অতি দরিদ্রসীমা ও ২০ শতাংশ লোক দরিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করতো। সেই সংখ্যা এখন উভয় ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেড় কোটির উপর শ্রমজীবী মানুষ চাকরি হারিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ৭৭টি পাটকলের মধ্যে সরকারি মালিকানায় মাত্র ২৪টি পাটকল ছিল। সরকার আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এই সব পাটকলের প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিক এবং আরো প্রায় ২০ হাজার বদলী শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। ২ মাসের মধ্যে কর্মচ্যূত শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধের কথা বলা হলেও এখনো অধিকাংশ শ্রমিকের পাওনা দেওয়া হয়নি। শিপ ব্রেকিং সেক্টর, নির্মাণ সেক্টর, পরিবহন সেক্টরসহ (গণপরিবহন) লাখ লাখ শ্রমিকের দূরাবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। গার্মেন্টস সেক্টর, স্বাস্থ্য সেক্টরে মালিকরা শ্রম আইন মানছেন না কোনভাবেই। নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র দেননা। প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিকের ক্ষেত্রেও শ্রম আইন তথা নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, নিম্নতম মজুরী কার্যকর করেন না মালিকরা। সরকারি কলকারখানা অধিদপ্তর শ্রম আইন কার্যকর করার দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও মালিকদের আইন কার্যকর করতে বাধ্য করেন না। দূর্ঘটনা-প্রবণ শিল্প শিপ ব্রেকিং, নির্মাণ ইত্যাদি খাতে দূর্ঘটনা প্রতিরোধে মালিকপক্ষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করেন না।








