মিঠুন দাশ, বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের রুমার দূর্গম এলাকা রেমাক্রী প্রাংসায় দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গেফতার হওয়া ১২আসামীকে কারাগারে প্রেরণ করেছে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
শনিবার (৪জুলাই) বিকালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বান্দরবান কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১২জন আসামীকে রুমা থানা পুলিশ কোর্টে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে ৮জন আসামী ফৌ:কা:বিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। দুজন আসামী স্বীকারোক্তি মূলক কোন জবান বন্দি দেয়নি। এছাড়া দুইজন মেয়ে থাকায় তাদের থানা থেকে প্রেয়ার না দেয়ায় তাদের জবান বন্দি নেয়া হয়নি। তবে ১২জনের সবাইকেই আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দিলে তাদের সবাইকে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয় বলে জানান কোর্ট পরিদর্শক।
আসামীরা হচ্ছেন,মংবাচিং মারমার ছেলে শৈইসিং থোয়াই মারমা (২৩), উচিমং মারমার ছেলে শৈনুমং মারমা (২০), মৃত: মংবু মারমার ছেলে মংনু মারমা (৪১), মংনাই মারমার ছেলে কানুচিং মারমা (২৯), পুচিং থোয়াই মারমার ছেলে উচি মং মারমা (৫০), ক্যথই মারমার ছেলে থুসেই মারমা (৩৫), মৃত: সাগ্য অং মারমার ছেলে মংবাচিং মারমা (৫৫), অং সুইথোয়াই মারমার ছেলে ফিঞোচিং মারমা (২৩), থোয়াইংসা মারমার ছেলে বাসিং উ মারমা (২৮), মংহাই মারমার ছেলে উক্যহ্লা প্রু মারমা (৩৫), মংবাচিং মারমার মেয়ে ইউনুংচিং মারমা (১৯) ও থোয়াইংসা মারমার মেয়ে মেলিপ্রু মারমা (১৮)।
প্রসঙ্গত: চলতি বছরের ২৪ শে জানুয়ারি রুমার দূর্গম হ্লাচিং পাড়া এলাকায় চট্রগ্রাম র্যাব ৭ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নিহত এ দুই ভাইয়ের বেশ কিছু পপি বাগান ধ্বংস করে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয় এলাকার পাড়া প্রধান (কারবারী) ও পাড়াবাসীর উপর। তাদের ধারনা পাড়া কারবারী বা পাড়াবাসীরাই নিষিদ্ধ পপি ক্ষেতের খবর দিয়েছে। তাদের ভয়ে কারবারী পাড়া ছেড়ে পালিয়ে ছিল অনেকদিন। এঘটনার পর থেকে এ দুই ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে পাড়াবাসী। (৩০ জুলাই) মঙ্গলবার দুপুরে পাড়ার একটি অনুষ্ঠানে এ দুই ভাই একজনকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দা দিয়ে কুপ দেয়। এতে পাড়াবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গণধোলাই দিলে তারা বিনা চিকিৎসায় সেখানেই মারা যায়।








