বান্দরবান প্রতিনিধি: নানা আয়োজনে বান্দরবানে পালন করা হয়েছে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৩তম বর্ষপূর্তি।
এ উপলক্ষে বুধবার (২রা ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্দ্যোগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এবং কেক কেটে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৩তম বর্ষপূর্তির শুভ সূচনা করেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা ।
এরপর পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও গরীব দুঃস্থ পরিবারে মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয় ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা বলেন, শান্তিচুক্তি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি লালিত স্বপ্ন। এ স্বপ্নকে তিনি বাস্তবে রূপ দিয়ে পাহাড় জুড়ে বইয়ে দিয়েছেন শান্তির সু-বাতাস। কিন্তু এ শান্তিকে যারা অশান্তিতে পরিণত করতে চায় তারা সংখ্যায় খুব নগন্য। তাদের প্রতিহত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের ফলে এখন আমরা সবাই তার সুফল ভোগ করছি। এসময় আলোচনা সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্যাসাপ্রু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন অংসুই প্রু মার্মা, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষীপদ দাস, ফিলিপ ত্রিপুরা, তিং তিং ম্যা, ফাতেমা পারুল’সহ প্রমুখ ।
এদিকে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় বান্দরবান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালে প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনীর উদ্দ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয় । এতে বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয় সেনাবাহিনী। পার্বত্য শান্তিচুক্তি ২৩তম বর্ষপূর্তি উদযাপন ও শান্তিচুক্তির বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ নেতারা ।
স্থানীয় একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা শাখার সভাপতি কাজী মুজিবুর রহমান। উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার পর থেকে পার্বত্য এলাকায় বইছে শান্তির সু-বাতাস।

