সিপ্লাস প্রতিবেদক: বান্দরবানের রুমা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ২নং সদর ইউনিয়নের দূর্গম পাহাড়ের পাদদেশে পলিকা পাড়ায় ৬৮ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)।
রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়ন থেকে দূর্গম গালেংঙ্গা ইউনিয়নে যাওয়ার জন্য ব্রীজটি নির্মাণ করা হলেও ব্রীজের শেষ প্রান্তে রয়েছে পাঁচশ ফুট উচ্চতার বিশাল এক পাহাড়। যাতায়তের জন্যও নেই কোন রাস্তা।
আর তাই সোয়া ৪ কোটি টাকায় নির্মিত এই ব্রীজটি স্থানীয়দের কোন কাজেই আসছে না । পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত ব্রীজটি স্থানীয়দের কাছে এখন বিনোদনের জায়গা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানান,সন্ধ্যা ও রাতের বেলা কিশোর-যুবকদের আড্ডার জায়গা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ব্রীজটি। নারীরা অনেকেই এই ব্রীজে ধান শুকাতে দিচ্ছে। স্থানীয়রা আরো জানান, তাদের সাথে কোন রকমের পরামর্শ না করেই এই ব্রীজ নির্মাণ করেছে সংশ্লিষ্টরা। এখন প্রায় সোয়া চার কোটি টাকার ব্রীজটি অকেজো হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
এলজিইডির তথ্যমতে , ২০১৭ সালে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫৮ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রীজটির নির্মাণ কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুচ এন্ড ব্রাদার্স। ২০১৯ সালে কাজটি সমাপ্ত করার কথা থাকলেও চলতি বছরের মার্চ মাসে কাজটি সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এদিকে পাহাড়ের পাদদেশে এত টাকা খরচ করে ব্রীজ নির্মাণ ও পাহাড় কেটে রাস্তা করার চেয়ে সড়ক পথে রাস্তার উন্নয়ন কাজ করলে এলাকার লোকজন বেশী সুফল পেত বলে মনে করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শৈউসাই মার্মা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে পাহাড় কাটা ছাড়া পাহাড়ী এলাকায় উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানান বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুস শাহাদাৎ মোঃ জিললুর রহমান।
ব্রীজ নির্মাণ উন্নয়ন হলেও স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ না করে পরিকল্পনা ছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এ ধরনের ব্রীজ নির্মাণ ও চলাচলের জন্য পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ সরকারী অর্থ অপচয় ও পরিবেশের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করেন স্থানীয়রা।








