মোঃ আলমগীর হোসেন, হাটহাজারী প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে, যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করা’র আহ্বান জানান।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চ কালো রাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী,শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
তখন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হাটহাজারী,রাউজান ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন ডাক্তার আব্দুস সাত্তার।
দেশ স্বাধীনের পরে নিজ গ্রাম চিকনদন্ডীতে শুরু করেন মানবসেবা। বিশেষ করে চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের মানুষের যে কোন বিপদ আপদে এগিয়ে যেতেন ডাক্তার আব্দুস সাত্তার।
তিনি হাটহাজারীর সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এম আবদুল ওহাবের বিশ্বস্ত একজন সহযোদ্ধা ছিলেন।
১৯৯১ সালে ডাক্তার আব্দুস সাত্তার মারা যাওয়ার পরে বাবার আদর্শ ও স্মৃতি ধরে রাখতে সমাজে বিভিন্ন প্রকারের উন্নয়ন মূলক কাজ করতে মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন নাম দিয়ে সমাজে কাজ করে যাচ্ছে তারই ২ সন্তান মোঃ মিজানুর রহমান ও মোঃ শাহজাহান সিরাজ।
তারমধ্যে দেশে সৃষ্ট করোনা পরিস্থিতির শুরুতে মাক্স, ডাক্তার ও সংবাদকর্মীদের পিপি, গৃহবন্দী হয়ে পড়া কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান বিতরণ করেছেন। নিজ এলাকায় উক্ত সংগঠনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫লক্ষ টাকার অধিক খরচ করে তাজ মোঃ তালুকদার পাড়া জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন করা ও হালদা নদীর বেড়িবাঁধের কিছু অংশে মানুষের চলাচলের জন্য বাতির ব্যবস্থার মত কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশন। ফতেপুর ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডে এক অসহায় পরিবারকে ঘর সংস্কার করার জন্য নগদ ১৬ হাজার টাকা ও চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে আর এক অসহায় পরিবারকে নগদ ২৬ হাজার টাকা দিয়ে ঘর সংস্কার করে দিয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার চিকনদণ্ডী ও মাদার্শা ইউনিয়নের দুইজন অসহায় পরিবারকে ঘর নির্মাণ করার জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মিজানুর রহমান সিপ্লাসকে বলেন, আমি একজন সামান্য ব্যবসায়ী। আমার বাবা সারা জীবন সমাজ সেবা করে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন আমি শুধু আমার বাবার আদর্শ ও স্মৃতিকে ধরে রাখতে সমাজে কাজ করার চেষ্টা করছি। আমার আর কোন উদ্দেশ্য নেই। সৎ ইচ্ছা থাকলে জনপ্রতিনিধি বা কোন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী না হয়েও সমাজে কাজ করা যায় সেটা যুবসমাজকে বোঝানোর জন্য আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন ও আমাকে সহযোগিতা করবেন।








