নিউজটি শেয়ার করুন

বাহারি রংয়ের ইফতার বাজার: ক্রেতা কমেছে রেস্টুরেন্টে, ঝুঁকছে টং দোকান ও হোটেলে

সিপ্লাস প্রতিবেদক: রমজান মাসে নগরীর মোড়ে মোড়ে বসেছে ভাসমান ইফতারের দোকান। হোটেল, রেস্টুরেন্টের সামনেও বসেছে ইফতারের দোকান। নানা রকম মুখরোচক ইফতার সামগ্রী দিয়ে ক্রেতাদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন নামী দামী রেস্টুরেন্টগুলো।

দোকানগুলোতে ইফতারের খাবার হিসাবে পিঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, বিভিন্ন ধরনের চপ, মুড়ি, হালিম, জিলাপি, বেগুনি, ভেজিটেবল রোল, বুন্দি, খেজুর ইত্যাদি।

সোমবার ( ১৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় নগরীর বিভিন্ন ইফতারির দোকান ঘুরে দেখা যায়, নানা স্বাদের ইফতারসামগ্রীতে দোকানগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে নামী দামী রেস্টুরেন্টে তেমন নেই ইফতারী কেনার রোজাদারদের ভিড়। তবে আশেপাশের হোটেল কিংবা টং দোকানে সাধারণ রোজাদার ক্রেতাদের ইফতারী কিনতে দেখা যায়। এসময় লালখান বাজার মোড়ে হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে রোজাদারদের ইফতারী কিনতে কিছুটা ভিড় দেখা যায়। তখন সেখানে শারীরিক দুরত্ব কিংবা স্বাস্থ্য বিধি মানার কোন নিয়ম চোখে পড়েনি। তার পাশে বিরানী খাবাব ও বাঙালীয়ানা রেস্টুরেন্টে তেমন কোন ক্রেতা নেই বললেই চলে। একই অবস্থা নগরীর বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে।

দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় বেচাকেনা। বাসায় নানা রকমের ইফতার সামগ্রী তৈরি হলেও অনেকেই দোকান থেকে ইফতারির বিভিন্ন পদ কিনে নিচ্ছেন। ইফতারের সময় সব রোজাদারই চান সাধ্যমতো মুখরোচক খাবার দিয়ে ইফতার করতে। তাই বিকেল থেকেই প্রতিটি বাসায় পড়ে যায় ইফতার তৈরির ধুম। বাসার তৈরি ইফতারের সঙ্গে যোগ হয় বাইরে থেকে কিনে আনা ইফতার সামগ্রী।

একাধিক রোজাদার জানান, কঠোর লকডাউনে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষরা জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বের হচ্ছে। তাই আমরা দিন শেষে যে আয় রোজগার পায় তা দিয়ে তো নামী দামী রেস্টুরেন্ট থেকে ইফতারি কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। মুসলমান যেহেতু রোজা তো অবশ্যই রাখতে হয়। তার জন্য হোটেল কিংবা টং দোকান থেকে ইফতারি কিনে খায়।

প্রাইভেট কোম্পানির চাকুরীজীবি সাইফুল ইসলাম,তারেক ও সুমন বলেন, যে বেতনে চাকরি করি। তা দিয়ে বাসা ভাড়া,খাওয়া দাওয়া করলে কোন দিকে শেষ হয়ে যায় তা বুঝতেও পারি না। তার মধ্য নামী দামী রেস্টুরেন্ট থেকে ইফতারি কিনে খাওয়া মোটেও সম্ভব না। তার মধ্যে কঠোর লকডাউন আবার নিত্য পণ্যের সব কিছুর যে দাম বাড়তি তাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদেরকে। নামী দামী রেস্টুরেন্ট থেকে ইফতারি কিনে খেতে পারে কেবল ধনীরা।

কয়েকজন রেস্টুরেন্ট মালিকরা জানান, বাহারি রংয়ের নানা রকম মুখরোচক ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসে আছি। গত বছর আর এবার আজ ৬ রমজান চলে যাচ্ছে। তেমন ক্রেতা নেই। তবে কঠোর লকডাউনের কারণে মানুষ তেমন বাসা কিংবা ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। যার কারণে ইফতার একটু কম চলে আর আমরাও কম তৈরী করি। তেমন খারাপ যাচ্ছে না আবার এত ভালও চলছে না।

দামপাড়া হ্যান্ডি রেস্টুরেন্টে পার্টনার মো: মামুনুর রশিদ মামুন সিপ্লাসকে বলেন, করোনার কারণে গত রমজান আর চলতি রমজানে ক্রেতা একটু কম। তবে তেমন খারাপ যাচ্ছে না। মোটামোটি ভাল চলছে। আমাদের সব চেয়ে বেশি বিক্রি হয় হালিম আর জিলাপি। সাশ্রয়ী মুল্যে ও ভাল মানের খাবার বিক্রি করায় সব শ্রেণির মানুষ আসে। করোনার আগে আমাদের হ্যান্ডি রেস্টুরেন্টে অর্ধশত কর্মচারী থাকলেও এবার তা কমে ১০/১২ জনে নিয়ে আসতে হয়েছে। কারণ বিক্রি কম হওয়াতে কর্মচারীও কম লাগছে।