সিপ্লাস ডেস্ক: আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে তারা উজ্জীবিত করতে চায় তালেবানের এমন ঘোষণার পরদিন শঙ্কিত আফগানদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের কাজে যোগ দিতে বলেছেন গোষ্ঠীটির সশস্ত্র সদস্যরা, জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
রাজধানী কাবুল দখলের পর মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে চায় বলে জানিয়েছিল তালেবান। আফগানিস্তানের সব সরকারি কর্মকর্তার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তাদের ‘পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের’ সঙ্গে কাজে ফেরার আহ্বানও জানায় তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ‘শরিয়া আইন অনুযায়ী’ নারীরা কাজ করার অধীকার পাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তালেবান; কিন্তু তারপরও বহু লোকের শঙ্কা কাটেনি।
বুধবার রাজধানী কাবুল থেকে শুরু করে পশ্চিমে হেরাত, দক্ষিণে লস্কর গা ও উত্তরে মাজার-ই-শরিফের এক ডজন লোক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তাদের বাড়িতে তালেবানের অঘোষিত পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন।
খারাপ কিছু ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা তাদের পুরো নাম জানাতে ইচ্ছুক ছিলেন না। লোকজনকে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করার পাশাপাশি এসব খোঁজখবর ভয় দেখানোর জন্যও হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতের বাসিন্দা ওয়াসিমা (৩৮) জানান, বুধবার সকালে সশস্ত্র তিন তালেবান সদস্য তাদের বাড়িতে হাজির হলে তিনি হতচকিত হয়ে পড়েন।
তিনি জানান, তারা তার বিস্তারিত তথ্য টুকে নেয়, যে ত্রাণ সংস্থায় তিনি কাজ করতেন তার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়, কত বেতন পেতেন তা জিজ্ঞেস করে আর তাকে ফের কাজে যোগ দিতে বলে যায়।
এসব পরিদর্শনের বিষয়ে এক তালেবান মুখপাত্রের মন্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
বুধবার টুইটারে শেয়ার করা এক ভিডিওতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত ‘রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তান’ এর উপস্থাপক শবনম দাওরান জানিয়েছেন, তাকে তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
“তারা আমাকে বলে, সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আপনাকে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না, বাড়ি চলে যান।”
এ অভিযোগের বিষয়ে তালেবান ও রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তান তাৎক্ষণিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
নিজের দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে তালেবানের সংবাদ সম্মেলন দেখা ওয়াসিমা জানান, তাকে কাজে ফেরার আহ্বান জানালেও তালেবানের অধীনে নারীদের সুযোগ সঙ্কুচিত হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
“তালেবান বলছে, নারীদেরও কাজ করা উচিত কিন্তু আমি জানি সুযোগ সঙ্কুচিত হবে,” বলেন তিনি।
দেশজুড়ে বিদ্যুৎগতির অভিযানের মধ্য দিয়ে রোববার কাবুল দখল করে তালেবান। তারপর থেকে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় জনশূন্য হয়ে আছে, অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ।
এমনিতে জানকীর্ণ এ রাজধানী শহরের এখন একমাত্র ব্যস্ত পথ বিমানবন্দরগামী সড়ক। সেখানে কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিয়োজিত ফ্লাইটগুলোতে করে বহু লোক দেশটি ছাড়ার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার বিমানবন্দরে ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে ১৭ জন আহত হয়েছেন। ধাক্কাধাক্কি করতে থাকা লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে তারা শূন্যে গুলি ছুড়েছে বলে জানিয়েছে তালেবান।








