সিপ্লাস প্রতিবেদক: জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের অযৌক্তিক ভাড়াকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
শনিবার (১৪ আগস্ট) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, সাবেক জেষ্ঠ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে মুঠোফোনে তিনি এ অনুরোধ জানান।
দেশে বিদেশে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সুজনকে ফোন করে এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান।
সুজন বলেন বাংলাদেশ বিমান দেশের জাতীয় সম্পদ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে বাংলাদেশ বিমান গড়ে তুলেন। এই প্রতিষ্ঠানের শৌর্যবীর্য যাতে অটুট থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা আমাদের সবারই একান্ত দায়িত্ব। আপনি নিজেও অবগত আছেন যে দীর্ঘদিন যাবত হজ্ব এবং ওমরাহে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। হজ্ব এবং ওমরাহের আকুলতা থাকলেও করোনার জন্য সৌদি সরকার সেখানে ইবাদত-বন্দেগীর সুযোগ দেয়নি। বর্তমানে সৌদি সরকার বাংলাদেশকে সে সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু বিমান ভাড়া যদি কমানো না হয় তাহলে বাংলাদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হজ্ব এবং ওমরাহে যেতে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়বেন।
তিনি ওমরাহের জন্য বিমানের স্পেশাল ফেয়ার চালুরও অনুরোধ জানান।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক বলেন, যেখানে বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-জেদ্দা ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া হচ্ছে পঁচানব্বই হাজার টাকা সেখানে সৌদি এয়ারলাইন্স নিচ্ছে বিরাশি হাজার টাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-জেদ্দা বিজনেস ক্লাসের ভাড়া হচ্ছে এক লক্ষ নব্বই হাজার টাকা সেখানে সৌদি এয়ারলাইন্স নিচ্ছে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা। বিমানের টিকেটের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিমান যাত্রী হারাচ্ছে। ফলে বিমান ক্রমশ লোকসানের মুখে পড়ছে। বিমান বলছে লোকসান পোষাতে তারা ভাড়া বাড়াচ্ছে কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে বিমানকে অবশ্যই অন্যান্য এয়ারলাইন্সের সমপরিমাণ ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।
আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসীরা জীবন ও জীবিকার তাগিদে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছে। এসব প্রবাসীরা ছুটিতে দেশে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশকে তাদের পছন্দের তালিকায় এক নাম্বারে রাখে। কিন্তু বারবার ভুল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে কৌশলে বিমানকে ধ্বংস করে দেওয়ার পায়ঁতারা করছে একটি চক্র। এদের চিহ্নিত করে সমূলে উৎপাটন আজ সময়ের দাবী। বিমানের অযোগ্যতা এবং অদক্ষতার দায়ভার কেন জনগন বহন করবে সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক সহযোগিতার ফলে বিমানের বহরে নতুন নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন করা হয়েছে। ফলে যাত্রীসাধারণ বাংলাদেশ বিমান ব্যবহারে আগের চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।তারপরও কি কারণে বিমানের ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে বিমানকে যাত্রীহারা করে লোকসানের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।
তিনি জাতীয় পতাকাবাহী বিমানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নিকট উদাত্ত আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন ইতিমধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি প্রদান করেছে তবে তার অন্যতম শর্ত হচ্ছে বিমানবন্দরে র্যাপিড টেস্ট বুথ প্রতিস্থাপন করা। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিমানবন্দরে র্যাপিড টেস্ট বুথ চালু হলেও বাংলাদেশের বিমানবন্দরসমূহে ঐ বুথ চালু না হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে যেতে অসুবিধার সম্মূখীন হচ্ছেন আমাদের যাত্রীরা।
এতে করে বাংলাদেশের বিপুল শ্রমবাজার পাকিস্তান কিংবা অন্যান্য দেশ দখল করে নিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি অতিসত্বর বিমানবন্দরে র্যাপিড টেস্ট বুথ চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, সাবেক জেষ্ঠ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসান সুজনের সাথে আন্তরিকতার সাথে আলাপাচারিতায় অংশ নেন। তিনি সুজনের উত্থাপিত বিষয়গুলোর সাথে সহমত পোষন করেন।
তিনি পরিষদের সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করে বিমানের ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।








