সিপ্লাস ডেস্ক: কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও চার্টার্ড ফ্লাইটে বাধা ছিল না; কিন্তু বাংলাদেশ বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইটেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জাপান।
এই সময়ে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে জাপানে যাওয়া দুজন যাত্রীর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পর জাপান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিমান প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
তবে এই সমস্যার জন্য জাপানি দূতাবাসকেই দায়ী করে তারা বলছেন, দূতাবাসই এই যাত্রার আয়োজন করেছিল, বিমান শুধু তাদের উড়োজাহাজটি ভাড়া দিয়েছিল।
এনিয়ে জাপান দূতাবাসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
করোনাভাইরাস সঙ্কটকালে গোটা বিশ্বেই আকাশপথ সীমিত হয়ে এসেছে। নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধের এই সময়ে বিমান চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করছে, জাপানেও কয়েকটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে জাতীয় পতাবাহী বিমান সংস্থাটি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, এপ্রিলে জাপান দূতাবাস তাদের কর্মকর্তাদের জাপানে ফিরিয়ে নিতে বিমানের একটি ফ্লাইট ভাড়া করেছিল। এখন তারা আর চার্টার্ড ফ্লাইট নেবে না বলে জানিয়েছে।
“জাপান তাদের দেশে চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনায়ও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মূলত আমাদের যেই চার্টার্ড ফ্লাইট গিয়েছিল জাপান অ্যাম্বেসি ফ্লাইটগুলো নিয়েছিল। এখন জাপানই চার্টার্ড ফ্লাইট নেবে না, এটা বলেছে।”
কারণ জানতে চাইলে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, “আমি শুনেছি, বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দুজন জাপানে যাওয়ার পর তাদের করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ে।”
তারা কি তাহলে ভুয়া চিকিৎসা সনদে গিয়েছিলেন কিংবা বিমানবন্দরে পরীক্ষায় তা ধরা পড়ল না কেন- প্রশ্ন করা হলে
তিনি বলেন, “আমরা বিমানবন্দরে যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি হেলথ ও হাইজিনটা নিশ্চিত করছি। চিকিৎসকরা ওই যাত্রীদের যে সনদ দিয়েছেন, তারা হয়ত ইনোসেন্টলি দিয়েছেন। যেটা এসেছে সেটাই দিয়েছেন।”
সচিব মহিবুল জাপান দূতাবাসকে দায়ী করে বলেন, “কারণ কোন যাত্রী ওই ফ্লাইটে যাবে, সেই তালিকা ঠিক করেছে জাপানেরই অ্যাম্বেসি। বাংলাদেশ বিমানের কাছে তারা একটা বিমান চেয়েছে। টাকা দিয়েছে, বিমান ফ্লাইট অপারেট করেছে। কোন যাত্রী যাচ্ছে, আর কোন যাত্রী যাচ্ছে না, সেটা তো ঠিক করেছে জাপান অ্যাম্বেসি।
“তালিকাটা তো আর বিমান করেনি, মন্ত্রণালয় করেনি বা সিভিল এভিয়েশনও করেনি। তাদের দায়টা এখন আমাদের উপর চাপানো হচ্ছে আর কী।”
সংক্রমিক যাত্রী পাওয়ার বিষয়ে সচিব বলেন, “ওখানে যাওয়ার পর কার করোনা পজেটিভ হয়েছে, সেই দায় তো আর আমাদের না। এখানে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশ সরকারের কোনো দায় নেই। গতকাল আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এটা বলেছেন।”
বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে জাপানে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিমান সচিব।
“তাদের সাথে আমাদের এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট হয়েছে। এখন জিএসএ নিয়োগ করার জন্য আমরা বিজ্ঞাপন দিয়েছি। আমাদের এগুলো হয়ে গেলে সেখানে রেগুলার ফ্লাইট যাবে।”
করোনাভাইরাস সঙ্কট কাটিয়ে তিন মাস পর এই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু করতে চায় বাংলাদেশ।








