সিপ্লাস ডেস্ক: বিসিবির সভাপতি হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেটে বেশ সরব উপস্থিতি পাপনের। দল নির্বাচন হতে শুরু করে একাদশ বাছাইতেও হাত রয়েছে তার। এমনকি টস জিতলে কি নিতে হবে এমন সিদ্ধান্তও দিয়ে থাকনে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সেই তাকেই হয়তো আগামীতে আর বিসিবির মূল দায়িত্বে নাও দেখা যেতে পারে।
মূলত চিকিৎসকদের পরামর্শের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানান পাপন। বৃহস্পতিবার বিসিবির এজিএম শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার একটা খারাপ দিক হচ্ছে হারলে হারটা আমি মেনে নিতে পারি না। বাংলাদেশ হারলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আমার বৌ-বাচ্চা সামনে আসে না। ডাক্তার আমাকে বারবার বলেছে ক্রিকেট থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দূরে সরে যেতে।’
চলতি বছরের শেষদিকে অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে বিসিবির কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এবারের নির্বাচনে তিনবারের বোর্ড সভাপতি পাপন অংশগ্রহণ করবেন না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আবেগ-প্রবণতার কারণে ক্রিকেটের পেছনে অনেক সময় দিতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের এত বেশি সময় নিয়ে নিচ্ছে, আগে এর কোনও ধারণা আমার ছিল না। মাঝে ১ বছর কিন্তু আমি কিছুতে ছিলাম না, ভালোই ছিলাম। কিন্তু আবার যখন আগের মতো হলাম, দেখলাম এটা আমার অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছে। ’
সেই ২০১২ সাল থেকে বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন পাপন। ক্রিকেটে এই সময়টা যথেষ্ট বলে মনে করেন তিনি, ‘ক্রিকেটে অনেক সময় দিলাম। নিউজিল্যান্ডে (দলের ম্যানেজার হিসেবে) জালাল ভাই গেলেন, জিম্বাবুয়েতে গেলেন ববি ভাই। তারা জানেন আমার অবস্থা। ভোর থেকে তো খেলা দেখেছিই, ওখানে ৭টা বাজলেই ফোন দিয়েছি, সকালের নাস্তা করার আগে সবার সঙ্গে কথা বলা, এরপর দল নিয়ে কথা বলা। আসলে ক্রিকেট অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছে। ’
তবে এবারই প্রথম নয়, চার বছর আগেও প্রায় একই কথা বলেছিলেন পাপন। সেবার নির্বাচনের আগে ফের সভাপতি নাও হতে পারেন এমন কথা বলেও শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে থেকেছেন তিনিই। তাই এবারও এমন কিছু হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকছে না।
এর আগে সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল পদ ছাড়লে বিসিবির ১৪তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন পাপন। এরপর আরও দুই বার তিনি বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচিত হন।

