সাতকানিয়া শীলঘাটা গ্রামের আব্দুল আলিমের একমাত্র মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৯) চন্দনাইশ ধোপাছড়ির প্রবাস ফেরত আরিফুল ইসলামের (২২) সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরিবারের অমতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিয়ে করে বাপের বাড়ি ছাড়েন৷
যে প্রেমিকের জন্যে আয়েশা তার মা-বাবা-ভাইকে ছেড়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলো। মাত্র একমাসের মাথায় সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুড়মার হলো৷
চারলক্ষ টাকা যৌতুকের দাবীতে শারীরিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি জোর করে মুখে ঢেলে দেয় কিটনাশক।

আশংকা জনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর গতরাত (৩০ অক্টোবর) ১২টার কিছু সময় পর মারা যায় আয়েশা৷
তবে মৃত্যুর আগে তার ওপর চলা নির্মম নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা জানিয়ে যায় আয়েশা৷
মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় আয়েশা জানান, বিয়ের এক সপ্তাহ পর থেকে স্বামী আরিফ মালয়েশিয়া ফিরে যেতে ভিসার জন্যে চারলক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। পরিবারের অমতে বিয়ে করায় আয়েশার পরিবার সেই দাবী প্রত্যাখ্যান করলে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন৷ মেয়ের ওপর চালানো সেই নিষ্ঠুর নির্যাতন ও কান্নার আওয়াজ মোবাইলে কল দিয়ে সরাসরি শোনানো হতো আয়েশার পরিবারকে৷

সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর নির্যাতনের এক পর্যায়ের স্বামী আরিফ ও শ্বশুর শ্বাশুড়ি জোর করে আয়েশার মুখে ধানের বিষ ঢেলে দেয় বলে জানায় আয়েশা।
জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে আয়েশা জানান, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আর্শিবাদ থাকায় আরিফ ও তার মা-বাবা দিন দিন হিংস্রতার চরমে উঠে। মুখে বিষ ঢেলে দেয়ার পর অনেকটা বিনা চিকিৎসায় ঘরে বন্ধি করে রাখা হয় আয়েশাকে৷ ক’দিন পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মূমুর্ষ অবস্থায় আয়েশাকে সিএনজি করে দক্ষিন শীলঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ফেলে রেখে ঘাতকরা সরে পড়ে৷
স্থানীয়দের সহায়তায় আয়েশার পরিবার তাকে প্রথমে স্থানীয় সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়৷ তবে আয়েশার অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়৷
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিষাক্ত কিটনাষকের প্রভাবে আয়েশার দুটি কিডনী সহ একাধিক অঙ্গ প্রত্যক্ষ অকার্যকর হয়ে যায়৷ অবশেষে মঙ্গলবার রাত ১২ টা ৪ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে আয়েশা।
এদিকে মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে আয়েশার বাবা আব্দুল আলম গত ২২ অক্টোবর আরিফ ও তার বাবা-মাকে আসামী করে চন্দনাইশ থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি এজাহার দায়ের করলে প্রধান অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে৷ গ্রেফতার আরিফুল বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছে৷ আজ আয়েশার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যামামলায় আসামী সকলকে গ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবী জানায়। লাশ ময়না তদন্তের পর আয়েশাকে নেয়া হবে নিজ গ্রামে৷ সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানান নিহতের বাবা আব্দুল আলিম।








