নিউজটি শেয়ার করুন

বিয়ে করতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসা ছয় স্কুল শিক্ষার্থী হাজতে

সিপ্লাস প্রতিবেদক: তিনজন কিশোরীর বয়স ১৩ বছর এবং তিনজন কিশোরের বয়স ১৫ বছর। তারা ছয়জনই প্রেমিক জুটি। পালিয়ে ঢাকার দামরাই থেকে চট্টগ্রামে এসেছে বিয়ে করতে। চট্টগ্রামের রোড-ঘাট চেনা জানা না থাকলেও এ চট্টগ্রাম নগরকেই তারা নিরাপদ হিসেবে বেছে নিয়েছিল বিয়ের আসর হিসেবে। কিন্তু তিনজোড়া প্রেমিক জুটির সেই শখ পূরণ হয়নি। সেখানে বাধ সেজেছে বেরসিক পুলিশ। তাদের বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই রেল স্টেশন থেকে ঠাঁই হয়েছে সোজা কোতোয়ালী থানার হাজতে।
কিশোর তিনজন পড়েন ঢাকার দামরাইয়ের একটি স্কুলে নবম শ্রেণীতে। কিশোরী তিনজন পড়েন একই স্কুলের ক্লাস সিক্সে। তারা ছয়জনেই বিয়ে করতে রেলে করে ঢাকার ধামরাই থেকে চট্টগ্রামে আসে শুক্রবার সন্ধ্যায়। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে রেল স্টেশনে কোতোয়ালী থানার এএসআই জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বধীন এএসআই রুবেল বড়ুয়া ও কনেস্টেবল হোসাইনের টিমের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তারা। পরে তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে বলেছে, ঢাকা থেকে তিন প্রেমিকজুটি বিয়ে করতেই পালিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। এখন তাদের পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে তাদের জিম্মায় ওই তিন অপ্রাপ্ত বয়স্ক প্রেমিক জুটিকে তুলে দিতে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কোতোয়ালী থানার এএসআই জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সন্ধ্যায় রেল স্টেশন এলাকায় তিনজন কিশোর ও তিনজন কিশোরীকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরাফেরা করতে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তারা এলোমেলো উত্তর দিলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ঢাকা থেকে পালিয়ে তিনজনই বিয়ে করতে চট্টগ্রামের আসার কথা স্বীকার করে। তখন আমরা তাদের থানায় নিয়ে আসি। এখন অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসলে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হবে।’

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর-কিশোরীরা জানিয়েছে, তারা বিয়ে করার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিকল্পনামতে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর কমলাপুর স্টেশনে এসে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের টিকিট কেটে তূর্ণা-নিশিথায় করে রাতে চট্টগ্রামের পথে রওনা দেয়। সকালে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছলেও এখানকার পথঘাট চেনা-জানা না থাকায় স্টেশন এলাকাতেই দিন পার করে। পরে সন্ধ্যায় পুলিশের হাতে আটক হয় তারা।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ঢাকার ধামরাইয়ের কাজিয়াকুণ্ড এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় এই ছয় কিশোর-কিশোরী। একই এলাকায় একই স্কুলের তিনজন কিশোর ও তিন কিশোরী একই সমেয় নিখোঁজের ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তোলাপাড় চলছে। এরমধ্যে কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাদের আটক করার খবর পেয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের খবর পেয়ে তাদের পরিবারের লোকজন চট্টগ্রামের এসেছেন। তাদের জিম্মায় এই ছয় কিশোর-কিশোরীকে তুলে দেওয়া হবে।