Site icon CPLUSBD.COM

বুধবারই শেষ হচ্ছে বাবরি মসজিদ মামলার শুনানি

ভারতের প্রধান বিচারপতি গগৈর মেয়াদ শেষের আগেই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবি: এনডিটিভি

বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টার মধ্যে শুনানিটি শেষ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

“আমরা ৫টার মধ্যে উঠে পড়বো। অনেক হয়েছে,” বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে এক আইনজীবী আরও সময় চাইলে তার জবাবে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।

এদিনই ভূমি নিয়ে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা প্যানেলেরও তাদের দ্বিতীয় দফা মধ্যস্থতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি গগৈর মেয়াদ শেষের আগেই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবারের শুনানিতে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে‘শিশু ভগবান রাম’ নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠান রাম লালা বিরাজমানের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কে পারাসারান বলেন, হিন্দুরা শতকের পর শতক ধরে এ স্থানকে রামের জন্মভূমি হিসেবে বিশ্বাস করে আসছে এবং এর অধিকারের জন্য লড়াই করছে।

“মুসলমানরা চাইলে অন্য যে কোনো মসজিদে প্রার্থনা করতে পারেন। অযোধ্যাতেই ৫৫-৬০টি মসজিদ আছে। কিন্তু হিন্দুদের জন্য, এটি হচ্ছে ভগবান রামের জন্মস্থান। আমরা তো জন্মস্থান বদলাতে পারি না,” বলেন পারাসারান।

শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি অনেকটা হালকা চালে মুসলিম আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ানের কাছে আদালত হিন্দু পক্ষগুলোকে যথেষ্ট জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এমনটা মনে করছেন কিনা জানতে চান।

ধাওয়ান এদিন অযোধ্যায় মসজিদের সংখ্যা নিয়ে পারাসারানের মন্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি পারাসারানের কাছে অযোধ্যায় কতগুলো মন্দির আছে, তাও জানতে চান।

সপ্তাহব্যাপী দশেরা উৎসবের ছুটি শেষে চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে সংবেদনশীল এ মামলার শেষ পর্বের শুনানি শুরু হয়।

এ পর্বে মুসলিম প্রতিনিধিরা আদালতকে বলেন, ১৯৮৯ সালের আগে অযোধ্যার এ স্থানকে হিন্দুরা কখনোই রামের জন্মভূমি হিসেবে দাবি করেনি। তারা ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদকে আগের স্থানেই পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

বিতর্কিত এ রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ ভূমি বিরোধ মামলার রায় নিয়ে যেন কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয় সে জন্য অযোধ্যায় চার বা তার বেশি লোকের সমবেত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার।

বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের ৬ অগাস্ট থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক আদালতে সংবেদনশীল এ মামলাটির শুনানি শুরু হয়।

রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের ভূমি দাবিদার পক্ষগুলোর চারটি মামলায় ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাই কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত ওই ২ দশমিক ৭৭ একর জমি বিবদমান তিনটি পক্ষ- সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নিরমোহি আখড়া ও রাম লালার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার রায় দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ১৪টি আপিল জমা পড়ে।

এনডিটিভি বলছে, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে রামের জন্ম এবং সেখানে থাকা পুরনো মন্দির গুঁড়িয়েই বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা ষোড়শ শতকে নির্মিত ওই মসজিদটি ভেঙে ফেললে ভারতজুড়ে ভয়াবহ দাঙ্গা দেখা দিয়েছিল।

কয়েক দশক ধরে চলা এ ভূমি বিরোধ মেটাতে বেশ কয়েকবার মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।