খলিল চৌধুরী, সৌদি আরব প্রতিনিধি: প্রতি বছরের মতো এবারো পবিত্র কা’বা ঘরের গিলাফ পাল্টনো হবে। আগামী (৩০ জুলাই) বৃহস্পতিবার কাবা শরীফের এ গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে।
রাসূল (সাঃ) এর সময় থেকে যিলহজ মাসের ৯ তারিখ কাবার উপর নতুন গিলাফ বসানো হয়। আগামী ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার বায়তুল্লাহ কা’বা ঘরের গিলাফ পরিবর্তন করা হবে। প্রতি বছর এ সময়ে একবছরের পুরোনো গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফে সাজানো হয় পবিত্র কাবা শরীফকে।
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের পক্ষ থেকে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ কিসওয়াহ কাবার প্রধান নিরীক্ষক সালেহ বিন জায়নুল আবেদিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ২২ জুলাই মক্কার গভর্ণর খালেদ আল ফয়সাল কাবার নিরীক্ষকের কাছে তা পৌঁছে দেয়। প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৯ তারিখ তারিখ আরাফা প্রাঙ্গণে হাজিদের অবস্থানকালে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়।
হাদিসে বর্ণনা মতে, নবম হিজরিতে রাসুল (সা.) মক্কা বিজয় করে হজ পালনকালে আরাফার দিন (৯ জিলহজ) সাদা রঙের ইয়ামেনি চাদর দিয়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ পরিবর্তন করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর এ দিন কাবার গিলাফ পরিবর্তন করা হয়।
পবিত্র দুই মসজিদের ব্যবস্থাপনা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে কাবার গিলাফের নিম্নাংশের প্রায় তিন মিটার ওপরে তুলে তাতে সাদা কাপড় লাগানো হয়েছে। গিলাফের পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য সতর্কতামূলক এ ব্যবস্থাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, মহানবী (সা.)-এর সময় কাবার গিলাফ সাদা ও লাল রঙের ডোরাকাটা ইয়ামানি কাপড় দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছিল। অতঃপর আবু বকর, উমর, উসমান (রা.)-এর সময়ে তা সাদা কাপড় দ্বারা আবৃত করা হয়। ইবনে জুবাইর (রা.)-এর সময় লাল ব্রকেড কাপড় দিয়ে আবৃত করা হয়।
আব্বাসি যুগে কখনও সাদা কখনও লাল কাপড় দ্বারা আবৃত করা হত। সেলজুকি শাসনামলে তা হলুদ কাপড় দিয়েও আবৃত করা হয়। আব্বাসি খলিফা নাসির তা কালো কাপড় দ্বারা আবৃত করে। এরপর থেকে কাপড়ের এ রং এখনও অব্যাহত।সেন্টার অফ মক্কাহ হিস্টরির প্রধান ড. ফাওয়াজ আল দাহাজ বলেন, কাবা ঘর কখনও সাদা, কখনও লাল, কখনও কালো রঙের কাপড় দিয়ে আবৃত করা হয়েছে। তবে সব যুগেই অর্থনৈতিক অবস্থার নির্ভর করে কাপড়ের রং নির্ধারণ করা হত।
কাবা শরীফের গিলাফ একটি বস্ত্রখণ্ড যা দ্বারা কাবাকে আচ্ছাদিত করে রাখা হয়। বর্তমানে গিলাফ কালো রেশমী কাপড় নির্মিত, যার ওপর স্বর্ণ দিয়ে লেখা থাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ”, “আল্লাহু জাল্লে জালালুহু”, “সুবহানাল্লাহু ওয়া বেহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযিম” এবং “ইয়া হান্নান, ইয়া মান্নান”।
১৪ মিটার দীর্ঘ এবং ৯৫ সেমি প্রস্থবিশিষ্ট ৪১ খণ্ড বস্ত্রখণ্ড জোড়া দিয়ে গিলাফ তৈরি করা হয়। চার কোণায় সুরা ইখলাস স্বর্ণসূত্রে বৃত্তাকারে উৎকীর্ণ করা হয়। রেশমী কাপড়টির নিচে মোটা সাধারণ কাপড়ের লাইনিং থাকে। একটি গিলাফে ব্যবহৃত রেশমী কাপড়ের ওজন ৬৭০ কিলোগ্রাম এবং স্বর্ণের ওজন ১৫ কিলোগ্রাম। বর্তমানে এটি তৈরীতে ১৭ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল খরচ হয়ে থাকে।

