সিপ্লাস প্রতিবেদক: শীতকাল আসার আগেই চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র বেড়েছে সবজির দাম। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে সবজির দাম এমন দাবী খুচরা বিক্রেতাদের। এদিকে, সরবরাহ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় কমেছে ইলিশ মাছের দাম। একই সঙ্গে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও মাছের দামও বেড়েছে।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) নগরীর কয়েকটি কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় কমেছে ইলিশের দাম। নদীতে ও সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তাই সরবরাহ বেশি। আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বর্তমানে অনেকটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ মাছ।
তবে ইংলিশ মাছের দাম কম হলেও তা কিনে খাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় এবং অন্যান্য মাছের দাম আগে কিছুটা কম থাকলেও এবার সেগুলোরও দাম বেড়েছে এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ব্যবসায়ীরা জানায়, এখন ফার্মের মুরগির উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি। সাধারণ মানুষের কাছে মাছের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বেড়েছে। তাই দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির।

বর্তমানে বাজারে মানভেদে চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, কচুমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ঝিঙার কেজিও ৬০ টাকা।
শিম, ফুলকপি, বাধাঁকপির মৌসুম এখন নয়, তাই দাম কিছুটা বেশি জানিয়ে বাজারের সবজি বিক্রেতা মোবারক, নুরুল ইসলামসহ অনেকেই জানিয়েছে, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, ফুঁলকপি প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০টাকা, বাধাঁকপি প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, চাল কুমড়ার (জালি) প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ৪০ টাকা এবং পেঁপের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সবজির দাম বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে ডিমের। এই সুযোগে ডিমের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বাজার ভেদে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে এবং আগে বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা থেকে ১০৫ টাকায়। কিন্তু বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা দরে ।
নগরীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। ৭৫০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে।

এখন টমেটো ও গাজরের মৌসুম নয়। অনেকটাই কৃত্রিমভাবে এগুলোর আবাদ করেছেন চাষিরা। সেগুলোও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই দাম বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। মানভেদে গাজরের কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে।
অন্যদিকে, বাজারে বর্তমানে নতুন চালের পর্যাপ্ত স্টক থাকলেও বাজারে অস্থিরতা লেগেই আছে।
চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে চালের দাম বাড়তি। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে যে চালের দাম ছিল ৫৫ টাকা কেজি। এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৭ টাকা। গত সপ্তাহে যে চালের দাম ছিল ৬২ টাকা কেজি, এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৪ টাকা। গত সপ্তাহে যে চালের দাম ছিল ৪৮ টাকা কেজি, এখন সেই চাল চিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। গত সপ্তাহের ৫২ টাকা কেজি চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৫৮ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫০ -৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সাত দিন আগেও ছিল ৪৭-৪৮ টাকা। মাঝারি আকারের চাল প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গেল সপ্তাহে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া সরু চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৮ টাকায়। যা সপ্তাহ খানেক আগেও ৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রিয়াজউদ্দীন বাজার আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী সিপ্লাসকে বলেন, এখন আমন ধানের মৌসুম। তাই ধীরে ধীরে সবজির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। যার কারণে সবজির দাম বাড়ছে। তবে খুচরা বাজারে এখন সবজির দাম বাড়তি নিচ্ছে। আমরা তো কেবল ২/৩ টাকা বাড়তি নিচ্ছি। কারণ আগে যে পটল আমরা প্রতি কেজি খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ৮/১০ টাকায় বিক্রি করেছি। তখনও তারা ৪০ থেকে ৫০ টাকা ধরে বিক্রি করেছে। আর এখনও আমরা বাড়তি টাকায় কিনে তা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ১২/১৪ টাকায় বিক্রি করছি।








