বোয়ালখালী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের চরখিদিরপুরস্থ হাজারীরচর জ্ঞানাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারে ৩ নভেম্বর আহুত কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। এ বিতর্কিত ও শরৎপক্ষের মনগড়া দানোৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে এ বির্তকিত অনুষ্ঠান বন্ধে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলাকার শত শত নারী- পুরুষেন গণস্বাক্ষরে ৩০ অক্টোবর সকালে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে একই স্থানে, একইদিন, একই সময়ে প্রয়াত বিহারাধ্যক্ষ ধর্মশ্রী মহাথের স্বরণনানুষ্টান উদযাপনের লক্ষে গ্রামবাসীর পক্ষে পল্টু কান্তি বড়ুয়াগং ৩১ অক্টোবর স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অনুমতি চেয়ে অাবেদন করেছে বলে জানা গেছে।
পল্টু গংয়ের কয়েকজন জানান – চলমান দু’পক্ষের দন্ধ /সমস্যা নিরসনে বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের গৃহীত কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রর্দশন করে মনগড়া অতিথি, উদ্বোধক,সংবর্ধিত অতিথি মনোনয়ন করে শরৎগং কথিত উদযাপন কমিটির অায়োজন দেখিয়ে স্বঘোষিত এবং বিতর্কিত বিহারাধ্যক্ষকে চীবর দান করার জন্য যে কথিত কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। যা অযৌক্তিক এবং গ্রহণ যোগ্য নয়। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, হাজারীরচর জ্ঞানাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা নিয়ে গত ২ বছর যাবৎ পল্টু গ্রুপ এর সাথে শরৎ গ্রুপের চরম দন্ধ সৃষ্টি হয়ে একাধিক মামলায় রুপ নেয়। এ ঘটনায় শরৎ গ্রুপ উপ সংঘনায়ক অধ্যাপক বনশ্রী মহাথের, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভায় মহাসচিব বোধিমিত্র মহাথেরসহ ৫ ভিক্ষু ও ১৮ জন দায়ককে অাসামী করে অাদালতে মামলা দায়ের করে। এতে বৌদ্ধ সমাজ তথা গ্রামের সবার মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে বিহারটিতে ও গ্রামে ধর্মচর্চাসহ সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্বাবধানে উভয় পক্ষের দ্বন্ধ নিরসনে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ৫ জন কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। একমিটির উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দু’পক্ষদ্বয়কে সমঝোতা করার জন্য “বিরোধ নিরসনের লক্ষে আপোষরফা” স্টাম্পে ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দিয়ে স্বাক্ষীসমেত উভয়পক্ষদ্বয়ের স্বাক্ষর গ্রহণ করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গঠিত অাহবায়ক কমিটির এ আপোষরফা স্টাম্পের শর্ত বাস্তবায়ন কাজ শুরু না করার পূর্বেই শরৎ গং স্বঘোষিত ও বিতর্কিত বিহারাধ্যক্ষকে নিয়ে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠান উদযাপনের একটি মনগড়া কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটি গঠন করে। এ মনগড়া কমিটি গ্রামের সৃষ্ট দ্বন্ধের সাথে সরাসরি জরিত বির্তকিত লোকদের উদ্বোধক, সংবর্ধিত অতিথি দেখিয়ে ইউএনও’র নামসহ ভুল লেখে একটি দাওয়াতনামা বা চিটি ছাপিয়ে বিলি করতে থাকে এ বির্তকিত কঠিন চীবর দানের দাওয়াত নামা বা চিটি দেখে এ গ্রামের শত শত উপাসক- উপাসিক ও গ্রামবাসী ফুঁসে উঠে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেয়া সমঝোতা উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হতেই শরৎগং এহেন বির্তকিত কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের অায়োজন করায় এবং এ বিতর্কিত অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৩০ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গ্রামবাসীর গণ স্বাক্ষরে। এব্যাপারে পল্টু কান্তি বড়ুয়া বলেন- ইউএনও মহোদয় ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত অাহবায়ক কমিটির “বিরোধ নিরসনের লক্ষে অাপোষরফা ” স্টাম্পে প্রদত্ত ৫ টি শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার পর বিহার প্রাঙ্গনে প্রশাসনের অাহবানে একটি পুর্ণমিলনী অনুষ্ঠান করে দু’পক্ষকে মিলিয়ে দিলে গ্রহনযোগ্য হতো, কিন্তু ইউএনও মহোদয়ের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন না করা পূর্বে শরৎ গং মনগড়া একটি কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান করা ও অনুষ্ঠানে মনগড়া বিতর্কিত অতিথি করা কখনো গ্রামের লোক মেনে নিচ্ছে না। এটি উদযাপিত হলে গ্রামে অারো উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে, এতে সংঘাত সৃষ্টি হবে। এ উত্তেজনা ও সংঘাত রোধ কল্পে এ মনগড়া কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিরসন করা হয়েছিলো। কিন্তু দু:খের বিষয়, তারা একে অপরে মিলে মিশে চলার অঙ্গীকার করেও তা বাস্তবায়ন করছেন না। এ নিয়ে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।








