বোয়ালখালী প্রতিনিধিঃ বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকার নিগার সুলতানা (১৬) নামের এক গৃহবধুকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী মোঃ হেলাল (২৮)কে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ শে সেপ্টেম্বর ) নিহতের বড় ভাই সাজ্জাদ হোসেন বাদী নিগার সুলতানার স্বামী মোঃ হেলালকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নামে মামলা দায়ের করেন।
অন্য আসামীরা হলেন, বড়ভাই মোঃ এনামুল হক (৪০) ও ভাবী আয়েশা আক্তার (২৩)।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিন চরখিজিরপুর এলাকার মালেক মাঝির নতুন বাড়ির মালেকের ছেলে মোঃ হেলালের সাথে ২ মাস আগে একই উপজেলার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের জংগা তালুকদারের বাড়ির আহমদ মিয়ার মেয়ে নিগার সুলতানার বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। নিহতের স্বামী বড় ভাবীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
পরকিয়ার সম্পর্ক নিয়ে বুধবার (২৯শে সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কথা কাটাকাটি হয়। বিবাদীগন অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ ও আত্নহত্যার প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সাড়ে তিনটার সময় সিলিং ফ্যানের সাথে উড়না লাগিয়ে আত্নহত্যা করেন।
খবর পেয়ে নিহতের বড়ভাই সহ পরিবারের লোকজন গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
নিহতের মামা আবছার উদ্দিন জানান, এটি কখনও আত্মহত্যা হতে পারে না। ঝুলানো অবস্থা থেকে লাশ নামানোর সময় পা খাটের উপর ছিল। এছাড়া দরজা বন্ধ করে আমার ভাগনি ফাঁসি খেতে গেলে শ্বশুর বাড়ির কেউ কেন দরজা ভেঙে উদ্ধার করেনি। আমার পরিবারকে খবর দিয়ে লাশ উদ্ধারের মানে কি?
তিনি বলেন, গত প্রায় ১মাস যাবৎ আমার ভাগিনি পুষ্পা অভিযোগ করে আসছিলো, তার স্বামী হেলালের সাথে হেলালের ভাবীর অবৈধ সর্ম্পক আছে। এটিতে বাধা দিতে গিয়ে বারংবার মনোমালিন্য হচ্ছিল।
তিনি বলেন, এছাড়া লকডাউনে বিয়ে হওয়ার কারণে বরযাত্রী খাওয়ানো হয়নি এবং যৌতুক দেয়া হয়নি। যৌতুকের জন্যও একাধিকবার মেয়েকে চাপ দেয়া হয়েছিলো। এনিয়ে আমরা সর্বদা চাপে ছিলাম।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আবদুল করিম বলেন, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। স্বামী মোঃ হেলালকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

