বোয়ালখালী প্রতিনিধিঃ বোয়ালখালীতে প্রতিদিন তীব্র ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সসহ সেবাদাতারা।
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে দেখা যায়, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে হাসপাতালের করিডোরে শয্যা বিছিয়ে সামাল দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতালে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে রোগীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ভ্যাপসা গরমে ফ্যানবিহীন একাধিক করিডোরে স্থান নিয়েছেন অন্তত ২৫ জনের অধিক রোগী।
অন্যদিকে, নির্ধারিত বেডের পাশে মেঝেতে শয্যা বিছিয়ে একটু গরম থেকে বাঁচার জন্য অবস্থান নিয়েছেন রোগীরা। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে সাথে আসা স্বজনরাও একে অপরের সাথে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হচ্ছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, যে কোনো কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেলে সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। ডায়রিয়ার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই এর লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই রোগীকে প্রয়োজনমতো স্যালাইন খাওয়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ রোগের কারণে রোগী দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই সমস্যা বাড়লে কোনো রকম জটিলতা সৃষ্টির আগেই রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসকরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিল্লুর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহে ভর্তি হওয়া রোগীদের ৯০ শতাংশ ডায়রিয়াসহ নানান পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। রোগীর চাপ সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। বোয়ালখালীতে ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকট, তীব্র গরম, রাস্তা ও হোটেলের বাসি-পঁচা ও অপরিষ্কার খাবার থেকে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। তবে হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি না থাকলেও পরিচ্ছন্ন কর্মীর অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, আমাদের স্যালাইন সংকট নেই। সংকট পরিচ্ছন্ন কর্মীর। সরকারিভাবে একজনই সুইপার রয়েছে। আউটসোর্সিংয়ে কাজ করে চারজন। তারা ঠিকাদারের অধীনে। এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালের ফান্ড থেকে একজনকে সাময়িক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেও ঈদের অজুহাতে অনুপস্থিত।








