রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ায় বিতর্কিত বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাংকর ভান্তের ইন্ধনে হিন্দুধর্মের অনুসারীদের দীর্ঘদিনের পুরানো শ্মশান দখল ও ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ফলাহারিয়ায় এই ঘটনা ঘটে।
এই অভিযোগে ২৪ জনের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ফলাহারিয়া এলাকার হিন্দু ধর্মালম্বী জনসাধারণ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ফলাহারিয়ায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জনসাধারণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছে। ওই এলাকার হিন্দুপাড়া সার্বজনীন মহা শশ্মানে ২০০০ সাল থেকে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের জনসাধারণ মৃত দেহ সৎকার করে আসছে। কিন্তু ফলাহারিয়া জ্ঞানশরণ মহা অরণ্য কুটির বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু শরণাংকর থের এর নির্দেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন শ্মশানটি দীর্ঘদিন ধরে দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছে। গত কয়েক বছর ধরে তারা ওই শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারেও বাধা প্রদান করছে। গত বছরের ১০ জুলাই হিন্দু সম্প্রদায়ের শান্তিবালা দে নামে এক নারীর মৃতদেহ নিয়ে গেলে বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাংকর থের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন নিয়ে লাশ সৎকারে বাধা দেয় এবং ৩/৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তার সাথে আলোচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় লাশটি সৎকার করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হিন্দু ধর্মীয় বিধান অনুসারে উক্ত শ্মশানে যাদের মৃতদেহ সৎকার করা হয়েছে তাদের দাহকৃত স্থান চিহ্নিত করার জন্য ছোট ছোট ১৮টি শবঘর তৈরি করা হয়। কিন্তু পরেরদিনই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আবারও শরণাংকর ভিক্ষুর নির্দেশে ২০/৩০ জন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের চিহ্নিত লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে শ্মশানে মৃতদেহ অস্থায়ী ভাবে রাখার জন্য ইতিপূর্বে নির্মিত বেড়াবিহীন দোচালা টিনের ঘরটি সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে ফেলে।
এসময় মহা শ্মশানের ৮টি শবঘরও ভাঙচুর করে তারা।
খবর পেয়ে তাদের বাধা দিতে গেলে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের জনসাধারণকে মারধরও করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে মামলার অন্যতম বাদী প্রিয়তোষ কান্তি দে বলেন, আমাদের এলাকার একমাত্র শ্মশানটি তারা জোরপূর্বক দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। এমনকি আমাদের মৃতদেহ নিয়ে দাহ করতে গেলেও তারা বাধা দিচ্ছে। বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাংকরের ইন্ধনে এসব হচ্ছে। আমরা আমাদের একমাত্র শ্মশান দখলমুক্ত চাই এবং যারা আমাদের শ্মশানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ভাংচুর চালিয়েছে তাদের বিচার চাই।
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ‘শ্মশান দখলের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’








