সিপ্লাস ডেস্কঃ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুলনার পাইকগাছায় বড় ভাইয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে তারই ছোট ভাই রেজা (১৭) নামে এক কিশোর বিয়ে করেছে।
এ ঘটনার পর নোটারিয়ান দুই আইনজীবী সাক্ষীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর ওই কিশোরসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী যে ছাত্রীকে বিয়ে করেছে তাকে পরীক্ষার জন্য খুলানা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কিশোর রেজাকে গ্রেপ্তার করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ খুলনায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরান হোসেন ।
জানা গেছে, উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কালুয়া গ্রামের রফিকুল মোল্লার শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়ের সঙ্গে একই ইউনিয়ের কাওয়ালী গ্রামের মফিজুল মোল্লার ছেলে রেজা সরদারের পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে হয়। অভিযোগ উঠে রেজা জালিয়াতি করে এফিডেভিটে তার বড় ভাই মিল্টন সরদারের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে এ বিয়ের কাজ করে।
নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে দুই কিশোর-কিশোরীর বাল্যবিয়ে দেন অ্যাডভোকেট সমীর কুমার বিশ্বাস ও অ্যাডভোকেট শাহানারা পারভিন। এ ঘটনা জানাজানির পর ভুক্তভোগীর মা রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে রেজা ও তার দুই ভাই মিল্টন ও নান্নু, বাবা মফিজুল, অ্যাডভোকেট সমীর কুমার বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট শাহানারা, দুই সাক্ষী আবিদ ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ১৪ আগস্ট একটি মামলা করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এত প্রচার-প্রচারণার পরও আইনজীবীরা কাগজপত্র পর্যালোচনা না করে দুই কিশোর-কিশোরীর বাল্যবিয়ে কীভাবে দিয়েছেন। তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন জানান, আলোচিত এ মামলার ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে শারীরিক পরীক্ষার জন্য খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আদালতে তার ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এজাজ শফী বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে উপজেলার কাজী ও আইনজীবীদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় সভা করে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, বাদী মানবাধিকার সংস্থা ও মহিলা আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কথা বলে এ মামলা করেছেন।

