Site icon CPLUSBD.COM

বয়স সিদ্ধান্তেই যুবলীগের ৮০ শতাংশ নেতা বাদ পড়তে পারেন

যুবলীগের নেতা নির্বাচনে ৫৫ বছরের বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে করে জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে ঝড়ে পড়ছেন শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকসহ যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর ২৯ সদস্যের মধ্যে বাদ পড়ছেন ২৬ জন। আর মারা গেছেন একজন। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় ৮০ শতাংশ নেতা বাদ পড়তে পারেন বলে জানা গেছে।

যুবলীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিলে ৩৪ জন নেতা গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর একজন, দুজন যুগ্ম সম্পাদক ও তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদকের বয়স ৫৫ বছরের নিচে। তবে বয়স সীমা ৪৫ বছর নির্ধারণ করা হলে এরা সবাই বাদ পড়তেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আগামী ২৩ নভেম্বর। এ সম্মেলন সামনে রেখে এখন সব আলোচনা বয়স নিয়ে। সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নেতা-কর্মীদের তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কেউ কার্যালয়ে আসেননি। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম ও সদস্যসচিব হারুনুর রশীদ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে কর্মকৌশল ও উপকমিটি গঠন নিয়ে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা।

গত রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেতৃত্ব নির্বাচনে বয়সসীমা বেঁধে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা নিশ্চিত করেন, শুরুতে ৪৫ বছরের মধ্যে নেতা নির্বাচনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় যুবনীতি অনুসারে, ৩৫ বছর পর্যন্ত যুবক থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। এরপর সবার মত জানতে চাইলে অনেকেই বয়স বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। যুক্তি হিসেবে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা যুবলীগের রাজনীতি করছেন তাদের সবাই সংগঠন থেকে বাদ পড়ে যাবে। এমনকি বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এ বয়সের মধ্যে নেতা নির্বাচন করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। একপর্যায়ে বয়স সীমা ৫৫ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক সূত্র জানায়, বয়স সীমা ৫৫ থেকে বাড়াতে মত দেন যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা। তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে ৬০ করা যেতে পারে। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় যুবলীগ করতে হবে কেন। এলাকায় গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এরপর দুই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেনর আমুর পরামর্শ চান প্রধানমন্ত্রী। ৫৫ বছরের বয়সসীমা যথার্থ আছে বলে মত দেন তাঁরা। তারপর ৫৫ বছরের বয়সসীমা চূড়ান্ত করা হয়।