Site icon CPLUSBD.COM

ভদ্র পল্লীতে তাদের স্থান নেই, তারা হিজড়া: চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ হিজড়াই থাকেন বস্তিতে

ctg news

স্বরূপ ভট্টাচার্য: নগরীর অভিজাত এলাকায় ওদের থাকার জায়গা হয়না। থাকার জায়গা হয়না সাধারণ আবাসিক এলাকায়। ভদ্র পল্লীতে ওদের স্থান নেই। ওরা থাকে নগরীর বস্তি এলাকায়। কারণ ওদের পরিচয় ওরা হিজড়া।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ৫হাজারেরও বেশী হিজড়া চট্টগ্রামে আছেন বলে ধারণা পরিসংখ্যান বিদদের। জাতীয় পরিচয় পত্রে হিজড়াদের লিঙ্গ পুরুষ কিংবা নারী লেখা থাকায় হিজড়াদের অবস্থান চিহ্নিত করা খুবই জটিল বিষয়।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে কয়েক হাজার হিজড়া বাস করলেও তারা শুধু তাদের হিজড়া পরিচয়ের কারণে কোন ভদ্র পল্লীতে থাকতে পারেন না। নগরীর হিজড়াদের বড় অংশ থাকেন টাইগার পাস, পাহাড়তলী, আমবাগান রেলওয়ে বস্তিতে, পাহাড়তলী টাংকির পাহাড়, মুরাদপুর, বাহির সিগন্যাল, কর্ণেল হাটসহ নগরীর বিভিন্ন বস্তিতে। যেখানে অসুস্থ নোংরা পরিবেশে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় তাদের।

অনেক লেখাপড়া জানা হিজড়া নগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় থাকার জন্য বাসা খুঁজলেও বাড়িওয়ালা তাদের বাসা ভাড়া দেয়না। ফলে তাদের চলে যেতে হয় বস্তিতে। নাগরিক সুযোগ সুবিধার ঘাটতি থাকলেও একান্ত বাধ্য হয়ে তারা বস্তিতেই থাকেন।

সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৪হাজারের মতো হিজড়া বসবাস করেন বস্তিতে, ২০০থেকে ৩০০জনের মতো হিজড়া থাকেন সাধারণ আবাসিক এলাকায় নিজ পরিবারের সাথে বা দলবেঁধে বাসা ভাড়া নিয়ে এবং ৫০০জনের মতো হিজড়ার কোন থাকার জায়গাও নেই।

বস্তিতে থাকার বিষয়ে এইচ এস সি পাশ করা অপু হিজড়া বলেন, সমাজের মানুষের কটুক্তি, পরিবারকে অবমাননাসহ বিভিন্ন কারনে আমাকে পরিবার ছাড়তে হয়েছে। যদিও আমার পরিবার আমাকে ঘরেই রাখতে চেয়েছিলো। কিন্তু পরিবারকে বাঁচাতে আমি শেষ পর্যন্ত ঘর ছাড়ি। এরপর  আবাসিক এলাকায় বাসাভাড়া না পেয়ে আমি গুরুমার নির্দেশে আমবাগান বস্তিতে থাকতে শুরু করি। এখানে নাগরিক সুবিধা না থাকলেও খুব একটা কটুক্তি বা নির্যাতন সহ্য করতে হয়না। অপু বলেন, ভদ্র জায়গায় বাসা ভাড়া পেলে বস্তি থেকে চলে যাবো।

অপুর মতো একই কথা বলেন, টাংকির পাহাড়ের নিপা হিজড়া, আন্দরকিল্লার দিয়া হিজড়া, মুরাদপুরের নপুর হিজড়াসহ অনেকে।

হিজড়াদের নিরাপদ ও সুস্থ বাসস্থানের বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী  শরীফ চৌহান বলেন, সমাজের মানুষের অজ্ঞানতা, কুসংস্কার হিজড়াদের অধিকার আদায়ের অন্তরায়। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হলে হিজড়াসহ সকল সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের মৌলিক অধিকার পাবে। তিনি এজন্য সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

শরীফ চৌহান বলেন, সাধারণের দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টানোর পাশাপাশি হিজড়াদের লেখাপড়া ও কর্মমূখি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুললে তাদের বাসস্থানসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।