খালটির যেন বিশ্রাম বলতে কিছুই নেই। হয়ে গেছে ত্রিশ থেকে চল্লিশ ফুট গভীর। ব্রিজের ধসে যাওয়া অংশে কাঠের পাটাতন দিয়ে কোনমতে মোটরসাইকেল, রিক্সা ও সিএনজি সহ হালকা যানবাহন চলাচল করছে। ভারী গাড়ি গুলো চলাচল করতে না পারায় মালামাল পরিবহন করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে জনসাধারণের।
দেড় বছর যাবৎ ব্রিজের অর্ধেক ধসে পড়ে গেলেও মেরামত ও সংস্কারে এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিত্য চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যে ব্রিজের অর্ধেকাংশ ধসে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে আছে অত্র উপজেলা লক্ষাধিক মানুষ। বলছি বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের হাছনাপাড়া এলাকার হরিখাল ও তার ওপর ধসে যাওয়া ব্রিজটির কথা।
সরই ও গজালিয়া ইউনিয়নের লোকজনের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এইটি। ব্রিজটি দুই উপজেলার সীমানাবর্তী এলাকায় অবস্থিত। তাছাড়া লামা উপজেলা সাথে পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরের যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়কটি।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ধারা ৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভুগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪ এর (খ) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হলে অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধসে যাওয়া ব্রিজটির নিচে ২টি সেলু মেশিন বসিয়ে দেদারছে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, লোহাগাড়া উপজেলার এম. চর হাট এলাকার মৌলভী মামুন ও উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা নুরুল হক নুনু সহ ১০/১২ জনের বিশাল একটি সিন্ডিকেট এই বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। তারা সকলে প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষতি হচ্ছে দেখেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করছেনা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে হাছনা পাড়া এলাকার কয়েকজন বলেন, ”ব্রিজের এপার লামা আর ওপার হচ্ছে লোহাগাড়া উপজেলা। বালু তোলার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের সবাই জানে। তারপরেও আমরা লামার প্রশাসনের লোকজন বললে তারা বলেন, বালু লোহাগাড়া অংশ হতে তোলা হচ্ছে। একইভাবে লোহাগাড়া উপজেলার প্রশাসনের লোকজনকে বললে ঊনারা বলেন, এই বিষয়ে লামা উপজেলার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে। দুই উপজেলার কর্তা ব্যক্তিদের উদাসিনতার কারণে বালু তোলা বন্ধ করা যাচ্ছেনা। বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা সরকারদলীয় লোকজন ও প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা সরাসরি বাধা দিতে ভয় পায়। আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বালু তোলার কারণে বেশ কয়েকটি ব্রিজ, কালভার্ট, বিস্তৃর্ণ ফসলের জমি, খালের পাড় ও রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাচ্ছে। এছাড়া সরই ইউনিয়নের হরি খাল ও পুলু খালের আরো ৬/৭টি স্পট হতে বালু তোলা হচ্ছে। ”
এ বিষয়ে বালু তোলা সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য লোহাগাড়া শ্রমিক লীগের নেতা নুরুল হক নুনু’র সাথে মুঠোফোনে কথা হয়।
তিনি বলেন, “আমরা সরকার থেকে ইজারা নিয়ে বালু তুলছি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে আমার তিনটি স্পট হতে বালু তোলার ইজারা নিয়েছে। ব্রিজ, কালভার্ট ও খালের পাড় ভেঙ্গে গেলে আমরা কি করব।”
যদিও বালু মহাল ইজারার বিষয়ে কিছুই জানেন না লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, “খালের ওপার (লোহাগাড়া) হতে বালু তোলার কারণে আমরা কিছু করতে পারছিনা। তবে আমি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লোহাগাড়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি।”
এবিষয়ে জানতে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাওসিফ আহাম্মেদ কে অসংখ্যবার তার মুঠোফোনে ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ না করায় ঊনার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

