সিপ্লাস ডেস্ক: প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেওয়ায় দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) থেকে আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করা হচ্ছে। রোববার সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এর আগে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত আপাতত বন্ধ রাখার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, ভারতের ডাবল ভ্যারিয়েন্ট যেন বাংলাদেশে না ঢুকে সেজন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতের সঙ্গে সকল যাতায়াত ও যোগাযোগ বন্ধ করা দরকার। ভারতে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট আশঙ্কাজনক হারে ছড়াচ্ছে। ডাবল ও ট্রিবল মিউট্যান্ট ভাইরাসের কথা শোনা যাচ্ছে। আর নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যদি এই ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে চলেই আসে তাহলে সেটা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতে কুলাবে না বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, ভারতের ডাবল ভ্যারিয়েন্ট যেন দেশে না ঢুকে সে জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতের সঙ্গে যাতায়াত বন্ধ করা দরকার।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে, ভারতের ডাবল ভ্যারিয়েন্ট যেন বাংলাদেশে প্রবেশ না করে। এজন্য ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগতদের অবশ্যই কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ভারতের ডাবল ভ্যারিয়েন্ট যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাহলে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। তাই ভারতের ডাবল ভ্যারিয়েন্ট যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ না করে সেজন্য এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের সঙ্গে স্থল পথের সীমান্তগুলো একেবারেই বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিম বাংলায় করোনা সংক্রমণটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। সেজন্য আমরা মনে করি যে, ভারতের সঙ্গে স্থল পথের যে সীমান্ত আছে, এই সীমান্তগুলো একেবারেই বন্ধ করা দরকার।
রোববার বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত এক আলোচনা সভার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, আর কোনো বিপর্যয় এড়াতে এখন ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখার উচিত। এ বিষয়ে আমাদের মতামত আমরা যথাযথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। যদিও সরকারের ওপরের মহল থেকেই এ সিদ্ধান্ত আসবে।
তিনি আরো বলেন, দেশে ভারতের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি আছে কিনা এমন কোনো নিশ্চিত খবর আমাদের কাছে নেই। তবে দেশে নাইজেরিয়ার ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার কথা গণমাধ্যমেই জেনেছি।
প্রসঙ্গত, নতুন শনাক্তদের নিয়ে ভারতে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার ৩১১ জনে দাঁড়িয়েছে।

