Site icon CPLUSBD.COM

ভোলায় ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’

দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিনে ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে এক সমাবেশ শেষে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকটি ইসলামপন্থি দল মিলে এই ‘ঐক্য পরিষদ’ গঠন করে আন্দোলন চালাচ্ছে।

সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় সোমবার সকালে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এই ঐক্য পরিষদ। কিন্তু প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ায় এবং ওই মাঠ ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেওয়ায় সমাবেশের বদলে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জেলা ‘ঈমান আক্বিদা সংরক্ষণ কমিটির’ সভাপতি মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, “ভোলার নেতা তোফায়েল আহমেদ এমপি ও ডিসি মহোদয়ের অনুরোধে আমাদের সমাবেশ স্থগিত করেছি।

“তবে আমরা ৬ দফা দাবি দিয়েছি, তা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।”

মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার বিকালে ভোলার প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ মিছিল আহ্বান করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকালে তারা জেলা সদরে মানববন্ধন করবেন। পরে শুক্রবার বিকালে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি পড়ে শোনান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, যিনি ঈমান আক্বিদ্বা সংরক্ষণ কমিটিতেও একই দায়িত্বে রয়েছেন।

তাদের ছয় দফা দাবি হল: যে যুবকের ফেইসবুক আইডি থেকে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার ফাঁসি কার্যকর, সংঘর্ষে নিহতদের লাশ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর, আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা, ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসিকে প্রত্যাহার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও গ্রেপ্তারদের বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া।

ঐক্য পরিষদের এই সংবাদ সম্মেলনের পর জেলা সার্কিট হাউজে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের নেতাদের যে দাবিগুলো এসেছে, তা দেখার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট বিভাগ আছে।

“ফেইসবুক আইডি হ্যাক করার যে বিষয়টি আছে, তা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষজ্ঞ টিম ফেইসবুকের সঙ্গে আলোচনা করবে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।”

বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভ নামের এক যুবক শুক্রবার রাতে বোরহানউদ্দিন থানায় গিয়ে একটি জিডি করেন। সেখানে তিনি তার ফেইসবুক আইডি হ্যাকারের কবলে পড়ার কথা জানান।

শুভর মেসেঞ্জারে ‘নবীকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য’ ছড়িয়ে সেই ‘স্ক্রিনশট’ ব্যবহার করে গত শুক্রবার থেকে বোরহানউদ্দিনে উত্তেজেনা সৃষ্টি করা হয়।

এরপর শুভর বিচারের দাবিতে রোববার বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ‘মুসলিম তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

উপজেলা সদরে দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে চারজন নিহত হন, আহত হন ১০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক।

সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের দিকে গুলিও ছোড়া হয়; তাতে একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।

সংঘর্ষে যে চারজন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজনের মাথা ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে থেঁতলানো ছিল বলে চিকিৎসকের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক  বলেন, রোববারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।

হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, বিশৃঙ্খলার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে সেখানে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, কেউ যেন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের সভা সমাবেশ বা মিছিল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

বোরহানউদ্দিনের ঘটনার পর ভোলা জেলা শহরেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সকাল থেকে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ।

রোববার থেকেই ভোলায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশের জেলা থেকে দুইশর বেশি পুলিশকে ভোলায় আনা হয়েছে বলে ভোলা মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন।

আর বোরহানউদ্দিনে পুলিশ ও বিজেবির পাশাপাশি কোস্টগার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন।