রাউজানে ত্বরিকত ভিত্তিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে রাউজানে চলছে গণআন্দোলন। মূলত ত্বরিকত ভিত্তিক সংগঠনের নামে নানান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, আলেম-ওলামাদের মারধর, মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত, জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন চলছে।
মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি নিষিদ্ধসহ সংগঠনের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে পুরো রাউজানে চলছে সভা-সমাবেশ। সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের নেতাকর্মীরা এসব সভা সমাবেশে যোগদান করছে। সমাবেশে বক্তব্যের মাধ্যমে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তারই অংশ হিসেবে (২০ জানুয়ারী) সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম রাঙামাটি মহাসড়ক গহিরা চৌমুহনী চত্বরে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে কাগতিয়ার পীর ছৈয়্যদ মুনির উল্লাহসহ তার সহযোগীদেরকে গ্রেপ্তারের দাবীতে রাঙ্গামাটি সড়কের উপরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাউজানের সর্বস্তরের জনগণ। এতে হাজার হাজার জনতা, আলেম ওলাম, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষুব্ধ জনতা গহিরা চৌমুহনী চত্বর রাঙ্গামাটি সড়কের উপরে বসে গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তুলেন মুনিরীয়ার বিরুদ্ধে। সকাল ১০টা থেকে আন্দোলন শুরু করে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধুরা। তার পাশাপাশি ছোট বড় সড়ক গুলোতেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে জনদূর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ।

প্রায় ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ রাখার পর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে বেলা ১টায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বললে তারা তাদের অবরোধ আজকের মতো তুলে নেন। তবে দাবী না মানলে কাল থেকে আবারও আন্দোলনে নামবে বলে আন্দোলনকারীররা জানান।
গত রোববার (১৯ জানুয়ারী) বিকাল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রাউজানের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে রাউজান সদর মুন্সিরঘাটা চত্বরে আন্দোলন গড়ে তুলে জনসাধারণ। এই আন্দোলনে রাঙ্গামাটি মহাসড়ক প্রায় ৩ ঘন্টা অবরোধ করে রাখা হয়। সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৭২ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়ে পীর মুনিরুল্লাহ ও ৬০ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেয় আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, কাগতিয়ার ভন্ডপীর মুনিরুল্লাহ ও তার সহযোগী বিভিন্ন মামলার ৬০ আসামীকে গ্রেফতার করা না হলে পরিবহন ধর্মঘট সহ নানা কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুশিয়ারী দেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ এপ্রিল থেকে মুনিরিয়া বিরোধী আন্দোলন করে আসছিলেন রাউজানের সর্বস্তরের জনগণ।
আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রাউজান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত মুনিরীয়ার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে। তাদের ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। এরা ত্বরিকতের নামে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। অনেক সহ্য করেছে রাউজানের নিরীহ জনগণ, ধৈর্য্যর সীমা ছেড়ে গিয়েছে, তাদের এবার জবাব দেওয়ার সময়, তাদের ত্বরিকত হচ্ছে সম্পুর্ণ পকেট পূজা, কোন ধরনের আধ্যাত্মিকতা নেই বলে তারা মারপিট, হামলার পথ বেঁচে নিয়েছে।
এদিকে সোমবার দুপুরে রাউজান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি কাজী ইকবালের সভাপতিত্বে গহিরা চৌমুহনী এলাকায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সি-সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, মুনিরীয়া বিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র পৌর প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া খানম মিনা, পৌর প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, আওয়ামীলীগ নেতা জানে আলম জনি, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, মুছা আলম খান চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সারজু মোহাম্মদ নাছের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আহসান হাবীব চৌধুরী হাসান, মহিলা কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি, পৌর যুবলীগ সভাপতি হাসান মোহাম্মাদ রাসেল, সেক্রেটারী জিয়াউল হক রোকন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জিল্লুর রহমান মাসুদ, সেক্রেটারী সাখাওয়াত হোসেন পিবলু, তানভীর চৌধুরী, নাছির উদ্দিন ও পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি অনুপ চক্রবর্তীসহ আরো অনেকে।








