নিউজটি শেয়ার করুন

মনোনয়ন নিয়ে কঠিন সমীকরণে ফটিকছড়ি ইউপি নির্বাচন!

মনোনয়ন নিয়ে কঠিন সমীকরণে ফটিকছড়ি ইউপি নির্বাচন!

আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি: ১১নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ফটিকছড়ির ১৪ ইউপির ৯০ মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের টিকেট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

এ কারণে মনোনায়ন প্রত্যাশীদের বেশিরভাগ নেতা এখন দলবল নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। গেল বৃস্পতিবার কয়েকটি বিভাগের মনোনয়ন চুড়ান্ত করা হলেও অনেকটা হঠাৎ করে চট্টগ্রামের বিভাগের মনোনয়ন ঘোষণা পিছিয়ে দেয়া হয়।

এ বিভাগের মনোনয়ন ঘোষণা পিছিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্য তালিকায় সিরিয়াল না পাওয়া, পছন্দের প্রার্থীদের জন্য ডিওলেটার ও স্থানীয় গ্রুপিং বিষয়টি উঠে আসলেও মুলত: প্রার্থীদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় আ’লীগ।

এদিকে, ফটিকছড়ির মনোনয়ন ঘোষণায় ঢাকার দিকে চেয়ে আছে দলটির তৃণমুল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজার ও গ্রাম-মহল্লার সবখানে এখন একটিই আলোচনা কোন ইউনিয়নে কে পাচ্ছেন নৌকা প্রতীক।

উল্টো দিকে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে তর্ক যুদ্ধে সময় পার করছেন দলটির পক্ষে-বিপক্ষের নেতা কর্মীরা। ওয়ার্ড ভিত্তিক মেম্বার পদের প্রর্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পাদনে ব্যস্থ সময় পার করলেও দলীয় মনোনয়নের আশায় চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা এখনো ফরম সংগ্রহের দিকে আগ্রসর হতে পারেনি।

তবে, স্বতস্ত্রভাবে নির্বাচন করতে ভেতরে ভেতরে অনেকে প্রাথমিক প্রস্তুতি সেরে রাখছেন।

অন্যদিকে, উপজেলা আ’লীগের পাঠানো তালিকায় সিরিয়ালে শীর্ষে থাকা প্রার্থীদের চেয়ে কিছুটা নিচের দিকের সিরিয়ালে থাকা প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়নে প্রাধান্য পেতে পারেন বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে।

এক্ষেত্রে বাগান বাজারে রুস্তমের সাথে সামান তালে আলোচনা চলছে ডা: সাজুকে নিয়ে। একই ভাবে দাঁতমারায় দুই আলমের সাথে নতুন করে আলোচনায় যুক্ত হয়েছে ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের নাম।

মনোনয়ন নিয়ে কঠিন সমীকরণ চলছে নারায়াণহাটে। ঢাকার লবিং ছেড়ে দিয়ে এলাকায় উঠান বৈঠকে মনোনিবেশ করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান হারুন। তবে এ ইউনিয়নে ঐক্য পরিষদ নেতার ফোনে মাষ্টার রতনের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ার খবর এখন টক অফ দ্যা ফটিকছড়িতে পরিনত হয়েছে।

হারুয়ালছড়িতে নৌকার বিজয় নাকি কঠিন ? এমন আলোচনা চলছে পুরো উপজেলা জুড়ে। তবে বসে নেই নৌকা প্রত্যাশীরা। এক সমীকরণে নৌকার দৌড়ে ভুট্টো এগিয়ে থাকলেও অন্য সমীকরণে এগিয়ে আছেন হাসান সরোয়ার । পাইন্দং ইউনিয়নে নৌকা কে পাচ্ছে তার আলোচনার চেয়ে চেয়ারম্যান স্বপন পুনরায় প্রার্থী হচ্ছে কী না, তা আলোচনা চলছে সর্বত্র।

এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ভুল হলে ফলাফল উল্টে যেতে পারে, এমনি আভাস দিচ্ছেন স্থানীয়রা। এ ইউনিয়নে নৌকার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ত্যাগী তছলিমের সাথে, ব্যবসায়ী আজম-সাবু। ভোটের মাঠে কাঞ্চননগরেও একই চিত্র বিরাজ করছে।

স্বতস্ত্র প্রার্থী কৌশলী কাতেবের সামনে নৌকা প্রত্যাশী দিাদার,আমান, জানে আলম অথবা তরুণ তানভিরকে নিয়ে হিসাব মেলাতে হিমসিম খাচ্ছে এলাকাবাসী। সুন্দরপুরে দুদু,শাহনেয়াজ লিটনের নৌকায় এবার ভাগ বসালো নবাগত প্রার্থী।

এ ইউনিয়নে মন্ত্রীর আর্শিবাদে এবার নৌকা পেতে যাচ্ছেন শ্যালক জসীম,এমন আলোচনা ফটিকছড়ি জুড়ে। তার পরেও শেষ দেখার অপেক্ষায় আছেন আলোচনায় শীর্ষে থাকা তিন মনোনয়ন প্রত্যাশী। নৌকা পাওয়ার আলোচনায় সব কটিকে ছাড়িয়ে গেছে লেলাং । প্রতি মুহুর্তে ধরণ পাল্টাচ্ছে এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত এ ইউনিয়নে কে নৌকা পাচ্ছে কুতুব নাকি শাহীন?

তা জানা না গেলেও নৌকার মনোনয়ন কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির আওয়ামী গ্রুপিং রাজনীতির নতুন মেরুকরণ ঘটতে যাচ্ছে। এমন আভ্যাস দিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিজ্ঞরা।

রোসাংগিরীতে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তিতে ঢাকায় গিয়ে শফি-সেলিম জুটি ভাঙ্গনের খবর সত্য হলে নাটকীয় ভাবে এগিয়ে যেতে পারেন শোয়েব সালেহীন। তবে শেষ পর্যন্ত এ জুটির ঐক্য হলে কপাল পুড়তে পারে বর্তমান চেয়ারম্যানের।

বক্তপুরে নতুন মুখ স্বপন-জালালের সাথে যুক্ত হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল আজমের নাম। তবে নৌকার দৌড়ে কখনো জালাল এগিয়ে থাকার কথা শোনা গেলেও লবিং রাজনীতিতে নাকি স্বপন এগিয়ে। তবে স্বপন- জালালের মধ্যে কে নৌকা পাচ্ছেন তা বলা না গেলেও চেয়ারম্যান সোলায়মান নৌকার খেলায় অনেকটা পিছিয়ে।

ধর্মপুরে এবার পেয়ারু ভক্ত মাহমুদ নৌকার মনোনয়নে এগিয়ে থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পেয়ারু বিরোধীতা তার জন্য কাল হতে পারে, এমন গুঞ্জনের ডালপালা মেলেছে এলাকায়। তবে, এ জন্য বিপরীত মেরু মাহমুদকে কাছে টানলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এমনটাও জানান দিচ্ছেন তাঁর অনুসারীরা।

তবে উভয় গ্রুপের সাথে ব্যালেন্স করতে পারলে নৌকা এবার কাইয়ুমের ঘাটেও ভিড়তে পারে। জাফতনগরে নৌকার শক্তিশালী প্রার্থী হালিম। তাঁর সাথে টেক্কা দিতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে কাতার প্রাবাসী জিয়া। তবে হালিমের সাথে নৌকার প্রতিযোগিতায় তিনি কতটুকু ঠিকে থাকতে পারে, তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমিতিরহাটে নির্বাচনের পূর্বে উত্তাপ শুরু হয়ে গেছে।

এ ইউনিয়নে নৌকা পাওয়ার খেলায় অবতীর্ণ হয়েছেন মুলতঃ দুইজন। এরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান হারুণ রশিদ কালু ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহনেওয়াজ। উপজেলা আওয়ামী লীগের মুলধারাকে নিয়ে কেন্দ্রে নৌকা পেতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন কালু।

অন্যদিকে স্থানীয় গ্রুপিং রাজনীতিকে পুঁজি করে এবং বড় ভাই শাহজাহানের পরিচিতি নিয়ে নৌকা পাওয়ার তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শাহনেওয়াজ। নির্বাচনে শাহনেওয়াজ নৌকা পেলে কালু সমর্তিতরা সাবেক চেয়ারম্যান জানে আলম বাবুলকে যেমন স্বতন্ত্র প্রার্থী চায়। তেমনি ভাবে কালু নৌকা পেলে নাছিরকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করে জবাব দিতে চান শাহনেওয়াজরা। বলতে গেলে ভোটের মাঠে নিরুত্তাপ আব্দুল্লাহপুর।

এ নির্বাচনে আবারো নৌকা পেতে পারেন বর্তমান চেয়ারম্যান অহিদ। তা অনেকা নিচ্চিত বলা যায়। তবে গত বারের স্বতন্ত্রী প্রার্থী সেলিম নৌকা পাওয়ার তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here