আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাঙ্গুনিয়ার দুই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে মরিয়মনগর ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন মুজিবুল হক হিরু এবং স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ায় মো. নুর উল্লাহ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার।
তিনি বলেন, শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মনোনয়ন বোর্ড এই দু’জনকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। তারা দু’জনই নিজ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এছাড়া ২০১৬ সালে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ভোটে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন এরা। আশা করি এদের দু’জনের হাত ধরে সকল নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত করবেন।’
উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, গত বুধবার থেকে এই দুই ইউনিয়নের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পদে প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ আগামী ৩ ডিসেম্বর, ৫ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই, ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের, ৯-১১ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি, ১২ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১৩ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। মরিয়মনগরে ১৪ হাজার ৯৬৭ জন ভোটার রয়েছেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৬৪৮ জন এবং নারী ভোটার ৭ হাজার ৩১৯ জন। অন্যদিকে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নে ১১ হাজার ১২ জন মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ৬২৪ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ৩৮৮ জন। এই ইউনিয়নের সর্বমোট ২৫ হাজার ৯৭৮ ভোটার আগামী ৩০ ডিসেম্বর ইউনিয়ন দুটির ১৮টি ভোট কেন্দ্রের ৭৪টি বুথে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মার্চে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ও মরিয়মনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সীমানা জটিলতার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ২০১১ সালের পর থেকে এই ইউনিয়ন দুটির নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় স্থানীয়দের মাঝে উৎসাহ- আমেজ দেখা দিয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, আগামী ৩০ ডিসেম্বর স্থগিত হওয়া এই দুই নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।








