সিপ্লাস ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের তদন্ত প্রতিবেদনেও আগের অবস্থানে তিতাস। গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ থাকলেও দায় মসজিদ কমিটির। বিকেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে তিতাস গঠিত তদন্ত কমিটির জমা দেয়া প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী বলছেন, প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়; দায় এড়াতে পারবে না কেউই।
গেল ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩১ জন।
ঘটনার কারণ উদঘাটনে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৩ দিনের মাথায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিকেলে জমা হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে।
তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, অবৈধভাবে ঐ মসজিদের নিচে পাইপ লাইনের রাইজার স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখান থেকেই গ্যাস লিকেজ হয়ে মসজিদের পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, অবৈধ পাইপ লাইনের এই সমস্যা সারাতে কেউ অভিযোগ করেনি তিতাসে।
তিতাসের তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার বলেন, মসজিদের ফ্লোরের ৩ ফিট থেকে সাড়ে ৩ফিট নিচে আমাদের পাইপ। সেক্ষেত্রে যদি গ্যাস মসজিদের নিচে চলে যায়। তাহলে সেখানে যে টাইলস লাগানো হয়েছে সে টাইলস কোনো শর্তে স্লাবের ওপরে লাগানো হয়েছে? গ্যাসটা ওপরের দিকে চলতে আসতে পারছে এবং সেটা জমা হয়েছে মসজিদের এসি চ্যাম্বারে। এসি চ্যাম্বারে আমরা মিটার-বিহীন বৈদ্যুতিক সংযোগ পেয়েছি। সেই স্পার্ক থেকে মসজিদের ভিতর যে গ্যাস জমানো ছিল সেই গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ অথবা সৃষ্টি হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে মসজিদের নিচে পাইপ লাইনের রাইজার স্থানান্তর করা হলেও, তিতাস কেন তা ২২ বছরেও জানলো না এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তদন্ত কমিটির প্রধান।
তিতাসের তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার বলেন, একটা পরিত্যক্ত রাইজারে ছিদ্র পেয়েছি। এই রাইজারটাকে যারা লে করল, পরিত্যক্ত যারা বানালো সেটা ওইখানের গ্রাহক যদি তার নিজস্ব উদ্যোগে করে থাকে, শনাক্ত হয়ে যায় তাহলে আমি তিতাস গ্যাসকে দায়ী করব।
বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ সেখানে কিভাবে দেয়া হলো, কারা দিয়েছে সেসব বিষয়েও ডিপিডিসিকে নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী জানান প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমি মনে করি কেউ কারো দায়িত্ব কিন্তু এড়াতে পারে না। এই রিপোর্টের মধ্যে কিন্তু বলা হয় নাই যে, তাদের দায়িত্ব থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে শুধুমাত্র ঘটনাটা উল্লেখ করা আছে। আমার বিভাগ থেকে যে গাফিলতিগুলো আছে, সেটাও কিন্তু তারা কোনোমতে এড়াতে পারবে না।
এদিকে, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বিকেলে জমা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিনের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। ৪০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে গ্যাসের লিকেজ, বৈদ্যুতিক শটসার্কিট, মসজিদ কমিটির অবহেলাকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর রোববার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত প্রতিবেদন জমা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

