জিয়াউল হক ইমন: কে রে তুই ?
বার আউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রামের ফুসফুস খাবি ??
প্রকৃতির ধ্বংস করে চট্টগ্রামকে নরক করবি ??
১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের উপরে হাসপাতাল করবি ?
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরাতন ইউরোপিয়ান ক্লাব ধ্বংস করবি ??
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন ধ্বংস করে ইতিহাস পাল্টে দিবি ??
ছিলি রেলওয়ের ভূমি রক্ষক, হয়ে গেলি কালো বিড়াল ভূমি ভক্ষক!!
মহিউদ্দিন ভাই আইয়ের…
এক মহিউদ্দিন লোকান্তরে, লক্ষ মহিউদ্দিন চাটগাঁর ঘরে ঘরে

বৃহত্তর চট্টগ্রাম সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস নগরীর সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে এই ব্যানারটি লাগিয়েছেন। উপরে ব্যানারের লিখাটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ও মহিউদ্দিন চৌধুরী একে অপরের পরিপূরক। চট্টগ্রাম চিনেন কিন্তু সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে চিনেন না এমন মানুষ হয়তো পাওয়া যাবেনা। চট্টগ্রামের এই অবিসংবাদিত নেতা জীবদ্দশায় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি থাকাকালিন সময়ে নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রামের স্বার্থ রক্ষার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে। এই চট্টলবীর বেঁচে না থাকলেও আছেন চট্টগ্রামের মানুষের অন্তরে। তাইতো সিআরবিতে হাসপাতাল স্থাপনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের প্রতীক হিসাবে সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে ব্যানারের ‘মহিউদ্দিন ভাই আইয়ের’ লিখা ও ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হয় সিআরবি রক্ষা আন্দোলনে জড়িতরা।
বিষয়টি জানতে বৃহস্পতিবার(২ সেপ্টেম্বর) রাতে মুখোমুখি হয়েছিলাম চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের কো-চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুসের সাথে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস সিপ্লাসকে জানান, মহিউদ্দিন ভাই সারাটি জীবন চট্টগ্রামের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। চট্টগ্রামবাসীর মনের ভাষা ও হৃদয়ের কথা বুঝতেন। যিনি ছিলেন চট্টগ্রামের জনগণের অবিসংবাদিত নেতা । মহিউদ্দিন ভাইকে অনেকে দেখেছেন মেয়র হিসাবে, আমি দেখেছি জনগণ ও শ্রমজীবী মানুষের নেতা হিসেবে। ঊনি অত্যান্ত দূরর্দশী রাজনীতিবিদ ছিলেন বলে চট্টগ্রামকে কিভাবে সাজাতে হবে সেটা নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন।
মহিউদ্দিন ভাই মেয়র থাকাকালিন সময়ে বলছিলেন চট্টগ্রামে যেটা জলাবদ্ধতার কথা সবাই বলছে সেটা আসলে জলাবদ্ধতা নয়, সেটা হচ্ছে জলোচ্ছ্বাস। জোয়ার-ভাটার সময় পানি ফুলে উঁচু হয়ে বৃষ্টি না হলেও নগরীতে প্লাবিত হয়। আবার অনেক সময় প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে পাহাড়-পর্বত কাটার ফলে পাহাড়ের মাটি নালা-নর্দমা ভরে গিয়ে পানি সরতে না পেরে চট্টগ্রাম প্লাবিত হয়।
ঐ সময়ে ঊনার দাবী ছিল, কর্ণফুলী নদীতে ঝুলন্ত ব্রীজ না হলে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাবে। তখন পানি নিষ্ককাশন বন্ধ হলেও জলোচ্ছ্বাস হবে। তখন এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মানুষ এটার বিরোধীতা করেছিল। এটার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে কিভাবে জলোচ্ছ্বাস থেকে চট্টগ্রামকে বাঁচানো যায়। কিন্তু বিএনপি সরকার পিলার ব্রিজ নিমার্ণ করার ফলে কর্ণফুলী পিলারে গোড়ায় পলি এবং বালি জমে কর্ণফুলী ভরাট হতে চলেছে। চাক্তাই খাল, হিজরা খালসহ অন্যান্য খালের পানি অপসারিত না হওয়ার ফলে বর্তমানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে চট্টগ্রাম শহর এখন অর্ধেক প্লাবিত হয় পাশাপাশি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। যেখানে জোয়ার ছাড়া আজ কর্ণফূলীতে জাহাজ ঢুকতে পারেনা।
দেখুন আজ পর্যন্ত এটার সমাধান হয়নি অর্থাৎ মহিউদ্দিন ভাই দূরদর্শী নেতা ও জনপ্রতিনিধি হিসাবে চেয়েছিলেন কিভাবে চট্টগ্রামকে বাঁচাবে এবং তিনি সেটাই ভাবতেন। সে সময়ে ঊনি যে কথা বলে গেছেন সেটাই আজ বাস্তবতা।
অন্যদিকে অপরিকল্পিত কর্মকার্ন্ডের জন্য জাতীয় সংঘ পার্ক, আউটার স্টেডিয়াম ধ্বংস করে দিয়েছে।খেলার কোন জায়গা নেই। চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি। শত বর্ষের বৃক্ষ শোভিত এই অঞ্চল। সংস্কৃতকর্মী ও নগরবাসীর প্রিয় শিরীষতলা। শ্বাস নেওয়ার আর কোন জায়গা নেই। কয়েকজন শহীদদের সমাধি ধ্বংস করে ব্যবসা করার মানসে আজ সেখানে তথাকথিত এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী চক্র সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ চায়। যেটা ধনী লোক ছাড়া চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের জন্য কোন উপকারে আসবে না।
এই অবস্থার মধ্যে আমরা মনে করছি চট্টগ্রাম বিদ্বেষীদের আতংক মহিউদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের এখনো হৃদয়ের মাঝে স্থান করে আছে মহিউদ্দিন চৌধুরী। এই জন্য মহিউদ্দিন চৌধুরী আমাদের আন্দোলনের প্রতীক। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিআরবি থেকে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প সরাতে আবেদন করেছি। বিত্তবানরা যদি হাসপাতাল করতে চায় তাহলে সিআরবি ছাড়া অন্য জায়গায় করলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে এই জায়গায় নয়।
আমাদের চলমান সিআরবি রক্ষার আন্দোলনের প্রতীক হলো এখন মহিউদ্দিন ভাই। আমরা মহিউদ্দিন ভাইয়ের কর্মী। আমাদের মহিউদ্দিন ভাই চট্টগ্রাম রক্ষায় যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে সংগ্রাম করেছিল। আমরা তাঁর কর্মী হিসাবে হৃদয়ে ধারন করি । আমাদের হৃদয়ের মাঝে বেঁচে আছেন প্রকৃত মহিউদ্দিন চৌধুরী। এই জন্য ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী আইয়ের’ বাক্যটি ব্যানারে লাগিয়েছেন বলে জানান এই মুক্তিযোদ্ধা।
৩০ লক্ষ শহীদের একমাত্র অভিভাবক হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুতরাং শহীদদের সমাধি ধ্বংস করে কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে নিশ্চয় ঊনি দিবেন না বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত: গত দেড় মাসেরও বেশী সময় ধরে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের নেতৃত্বে বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের অবস্থানসহ নানা রকম প্রতিবাদ কর্মসূচী অব্যাহত আছে।








