Site icon CPLUSBD.COM

মহেশখালীতে আটকের পাঁচদিন পর মুক্ত ঢাবি শিক্ষার্থী ফরহাদ

মহেশখালী প্রতিনিধি: কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় জড়িত সন্দেহে আটকের পাঁচ দিন পর অভিযোগের সত্যতা না মেলায় পাঁচ দিন পর ছাড় পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদওয়ান ফরহাদ ও তাঁর বড় ভাই রাশেদ খান ওরফে মেনন। তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের টাইম লাইনে ও লাইভে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কোর্টা সংস্কার আন্দোলনের মূখ্যপাত্র রাশেদ খান মেনন লিখেছেন ঢাবি শিক্ষার্থী ফরহাদ ও তার ভাইকে মিথ্যা জঙ্গি অভিযোগ দিয়ে গুম করার নেপথ্যে ছিলো মহেশখালীর উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। বিষয়টি তাক্ষনিক সোস্যল মিড়িয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়ে দেশব্যাপি ছড়ি পড়ে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে অনেকের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে বলে জানাগেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে তাদের কক্সবাজার জেলা ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ওসি-ডিবি) মানস বড়ুয়া। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর কালারমারছড়ার ইউনুছখালীর নিজ বাড়ি থেকে জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদওয়ান ফরহাদকে। সে আরবি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী বলে জানাগেছে। পরদিন শুক্রবার আটক হন তার বড় ভাই রাশেদ খান ওরফে মেনন। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী রেদওয়ান ফরহাদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয় বলে একটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশ হয়। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার রেদওয়ান ফরহাদের বড় ভাইকেও ধরে নিয়ে যায় ডিবি। এরপর থেকে দুই ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা মহেশখালী থানায় নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।

কক্সসবাজার গোয়েন্দা পুলিশ (ওসি-ডিবি) মানস বড়ুয়া কক্সবাজার বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে গত শুক্রবার ডিবির একটি দল মহেশখালীর কালারমারছড়া অভিযান চালিয়ে রেদওয়ান ফরহাদ ও তাঁর বড় ভাই রাশেদ খানকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। পরে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি কার্যক্রমের সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ওসি মানস বড়ুয়া আরও বলেন, রেদওয়ানের বিরুদ্ধে একটি জঙ্গি সংগঠন গঠন করে তৎপরতা চালানোর অভিযোগ ছিল। অবশ্য, জিজ্ঞাসাবাদে এর সত্যতা মেলেনি। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুছখালী পশ্চিমপাড়া নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে রাশেদকে এবং পরদিন শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে রেদওয়ানকে তুলে নেয় ডিবি পুলিশ।

রেদওয়ান ফরহাদের বড় ভাই মোহাম্মদ ইসমাইল কক্সবাজার বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাদাপোশাকে সাত-আটজন লোক শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে ঢুকে তাঁর ছোট ভাই রেদওয়ানকে নিয়ে যান। আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর আরেক ভাই রাশেদকে একই কায়দায় তুলে নেওয়া হয়।