নিউজটি শেয়ার করুন

মহেশখালীতে করোনা সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার নিত্য পণ্যে গুদামজাত

করোনা নিয়ে মানুষের আতস্কের শেষ নেই। পুরো বিশ্বকে কাবু করে দিয়েছেন মহামারি করোনা। করোনে ভাইরাসকে পুঁজি করে চাউল, ডাল, আলু, তৈল পেঁয়াজ,রসুনসহ নিত্য পণ্যের দাম নিয়ে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যা করছে, তা জুয়া-মাদকের চেয়ে কম অপরাধ নয় বলে জানিয়েছেন স্থানিয় বাসিন্দারা। এতে নিম্ম আয়ের মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপে ততটা জোর দেখা যাচ্ছে না বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে।

বাজারমূল্য এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে সব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। ক্রয়মূল্যে উপজেলার সমগ্র ইউনিয়ন জুড়ে চলছে চরম অস্থিরতা ও হাহাকার। ক্রয়ক্ষমতার বাইরে দাম চলে যাওয়ায় চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাতারবাড়ী চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। উল্লেখিত পণ্যের এ সংকট ও অস্থিরতার পেছনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতি মুনাফা লোভ কাজ করছে!

অপরদিকে পেঁয়াজ গুদামজাত করে খোলা বাজারে সঙ্কট তৈরি করছে তারা। অথচ দিনের পর দিন পেঁয়াজের বস্তা আবদ্ধ রেখে পঁচিয়ে নদীর পাশে ফেলতেও দেখা গেছে অনেক সময়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নতুন বাজার ও পুরান বাজার কিছু নামকরা অসাধু ব্যবসায়ীরা চাউল,আলু,ডাল তৈল, পেঁয়াজ ও রসুন পর্যন্ত গুদামজাত করে ফেলছেন। ইতিমধ্যমে মহেশখালী প্রশাসন বিভিন্ন দোকানে মূল্যে বৃদ্ধির কারণে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ রকম লঘু শাস্তি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আদৌ সম্ভব হবে কি? এমন প্রশ্ম ঘুর পাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসির মাঝে। সমগ্র দেশসহ বাংলাদেশের লোকজন করোনা ভাইরাস নিয়ে আতস্ক আর সেই সুযোগ নিয়েছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) সরেজমিনে মাতারবাড়ী পুরান বাজার গিয়ে দেখা যায়, কিছু নামকরা অসাধু ব্যবসায়ীরা পাশ্ববর্তী ৩ টি দোকান ভাড়া নিয়ে মালামাল গুদামজাত করে রেখেছে গোপনে। কাজেই গুদামজাতকরণের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এমনে অভিমত সুশিল সমাজের। বলতে গেলে বাজারে কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়। চাউল, ডাল,আলু, তৈল, পেঁয়াজ ও রসুন দেশে ঘাটতি না থাকলে ও বিক্রি বাজারে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারে না। ফলে ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই যে কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন।

জানাগেছে, উপজেলাতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থাকলেও বাজারে অনৈতিক মুনাফাকারীদের বিরুদ্ধে সচরাচর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাহলে বাজারে এমন অনাচার নিয়ন্ত্রণের উপায় কী? মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার সেকুনতাজ বলেন,চাউল, ডাল, তৈল, পেঁয়াজ ও রসুন নিয়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

মহেশখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সুচিং মং মার্মা বলেন, ব্যবসায়ীরা মালামাল গুদামজাত ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।