নিউজটি শেয়ার করুন

মহেশখালীতে ঘর দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

মহেশখালী প্রতিনিধি: মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জেমঘাট এলাকায় এনজিও সংস্থা উদ্দীপনার নাম ভাঙ্গিয়ে ঘর দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে বহিরাগত মঞ্জুর আলম নামের এক প্রতারকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশের বাসিন্দা মঞ্জুর আলম স্থানিয় জেমঘাটা স্কুল কমিটির সভাপতি ও স্কুল প্রধান শিক্ষকের আশ্রয়ে থেকে তাঁদের নাম ব্যবহার করে ঘর দেওয়ার নামে অসহায় মানুষ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

এছাড়াও পাকা ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রামের হতদরিদ্র লোকজনের কাছ থেকে ৭ হাজার, ১০ হাজার ও ক্ষেত্রে বিশেষ ১৬ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ওই দিকে বিশ্বাস জমাতে প্রতারক চক্র বিভিন্ন জনের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র, জাতীয় সনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জায়গার পরিমাপ সম্বালিত জায়গার বিভিন্ন কাগজে ফটোকপি ও জমা নিয়েছেন।

ঘর দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে শাপলাপুর জেমঘাট নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম, একই এলাকার নজিমুল হাসান, জামির ছড়ির ছৈয়দ আলম, একই এলাকার নূর মোহাম্মদ, ধলঘাটার জালাল আহামদসহ অর্ধ শতাধিক লোকজনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ নগদ টাকা।

এদিকে দীর্ঘদিন ঘর না পেয়ে ফুঁসিয়ে উঠছে ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জেমঘাট এলাকায়।

জানা যায়, অসহায়দের জন্য এনজি সংস্থা উদ্দীপনা ঘর দিচ্ছে বলে লোভ দেখিয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস ধরে এ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উৎসবে মেতে উঠেছে উক্ত প্রতারক।

শাপলাপুর জেমঘাট এলাকার মৃত বশির আহমদের পুত্র সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি সহজ-সরল গরিব মানুষ। কর্ম করে খাই, আমার তেমন কোনো জমি নাই, বাবার যেটুকু আছে তাতেই কোনো মতে আছি। মঞ্জুর নামে এক প্রতারক তিনি ঘর দেওয়ার কথা বলে স্থানিয় এক দালালের মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘর দেবেন বলে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চাইলে আমি অনেক কষ্ট করে তাকে ৭ হাজার দিয়েছি। কিন্তু এখনোও ঘর দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় আমি আমার টাকা ফেরত চাইতে গেলে আজ দিবে কাল দিবে বলে কালক্ষেপন করে যাচ্ছেন।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শাপলাপুর জেমঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ বলেন, আমি নিজেও ঘরের জন্য টাকা জমা দিয়েছি। তবে মঞ্জুর আলম নামে ওই প্রতারক অপরিচিত ব্যক্তিকে স্কুলের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন কেন জানতে চাইলে প্রশ্মের জবাবে তিনি নিজেকে অপরাধী হিসাবে স্বীকার করে তার পরিচয় বেশি জানেন না বলে পাশ কাটিয়ে মুঠোফোন লাইন কেটে দেন।

শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফরিদুল আলম বলেন, ঘর দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি। আর তাকে বেশিদুর না চিনলেও সে উদ্দীপনা একটি সংস্থার কর্মী বলায় সে স্কুল দপ্তরির রুমে থেকে আসছে। এব্যাপারে খতিয়ে দেখবে বলে জানান।

মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এব্যাপারে আমি জানিনা, তবে কেউ ঘর দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিলে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here