সিপ্লাস প্রতিবেদক: সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ম্যাইঙ্গা পাড়ায় মাঝ রাতে বাবাকে দড়িতে বেঁধে পিটিয়েছে ছেলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ছেলের মাও। মারধরের সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ স্ত্রী শাহিনা আকতার এবং ছেলে খাইরুল এনামকে আটক করে।
সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মারধরের শিকার আবুল হোসেন ওরফে আবু ভান্ডারীকে উদ্ধার করে। স্ত্রী শাহিন আকতার ও ছেলে খাইরুল এনামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আবু ভান্ডারীকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।’
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ‘আবু ভান্ডারীর স্ত্রী শাহিনা আকতারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপুর ইউনিয়নের আলমগীর চৌধুরী বাড়ির মৃত ছাবের আহমদের ছেলে আবদুল কাদের ওরফে কাদেরগ্যার পরকীয়ার সম্পর্ক চলে আসছিল। গত কয়েকদিন আগে কাদেরগ্যা এবং শাহিন আকতারকে গোয়াল ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় স্বামী আবু ভান্ডারী দেখে ফেলেন।’ ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যদের বিচার দিলে কালিয়াইশ ইউনিয়নের মাস্টার মো. মহিউদ্দিন ও শাহিন আকতারের চাচাত ভাই নুরুল কবির বাবুসহ আরো কয়েকজনে আপোষ মীমাংসা করে দেন। সালিশী মীমাংসার কয়েকদিন পর গত সোমবার রাতে পুনরায় কাদের শাহিনের ঘরে আসলে স্বামী আবুল হোসেন ওরফে আবু ভান্ডারী প্রতিবাদ করেন।’
‘এ সময় আবু ভান্ডারী পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় কাদেরের উপস্থিতিতে স্ত্রী শাহিন আকতার ও মায়ের পক্ষ নিয়ে ছেলে খাইরুল এনাম আবু ভান্ডারীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন।’
এ ব্যাপারে ঘটনার মীমাংসাকারী মাস্টার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনাটি ১৫ থেকে ২০ দিন আগে আমরা মীমাংসা করে কাদেরের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছিলাম। এ ঘটনার আগেও কাদেরের এসব আচরণের জন্য এক সন্তান ফেলে তার স্ত্রী ঘর ছেড়ে চলে গেছে। এ ছাড়া বিষয়গুলো বন্ধে সামাজিক লোকজনও ঐক্যবদ্ধ।’
মারধরের শিকার আবু ভান্ডারী বলেন, ‘আমার স্ত্রীর সাথে প্রতিবেশী কাদেরের পরকীয়ার সম্পর্কটি জেনে আমি বাধা দিই। কিন্তু তারা আমার কথা শুনেনি। বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাতে আবারও স্ত্রীর সাথে তর্ক হলে ছেলে ও স্ত্রী মিলে আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করে।’
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বামী আবুল হোসেন বাদী হয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন

