হাবিবুর রহমান সোহেল, রামু প্রতিনিধি: রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা ৫নং ওয়ার্ডের পাহাড় পাড়ার মোঃ জামাল এর ছেলে, মাদক ব্যবসা করে, রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। মাদকসহ ইয়াবা কারবারি আব্দুর রহমানের ইয়াবা বানিজ্য যেন দিনদিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেছে। পুরো জেলাতে জুড়ে রয়েছে তার মাদক সিন্ডিকেট।
গেল কয়দিন আগে, বৃহত্তর গর্জনিয়া বাজার ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে ইজারাও নিয়েছেন সেই সিএনজি চালক রহমান।
স্থানীয় খোকন জানান, এলাকার বেকার যুবকদের বেকারত্বকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কৌশলে তাদের দিয়ে ইয়াবা পাচার করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। যেন আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়ার মতো। আর এই সব যুবকরা বিনা পূজিতে অধিক টাকার লোভে সরাসরি সহজ পন্থা ইয়াবা বানিজ্যের সাথে যোগ দিচ্ছে। ইয়াবা ব্যবসা করে বছরের শেষে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ সম্পদ ও গাড়ি বাড়ির মালিক বনে গেছে অনেকে। ফলে চরমভাবে ওই এলাকায় বেকার যুবকদের নব্য কোটিপতি’র সংখ্যা দৃশ্যমান।
অনুসন্ধানে এমনই একজন নব্য কোটিপতির নাম উঠে এসেছে, যার নাম আব্দুর রহমান সে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের নাম্বার ওয়ান ইয়াবা কারবারি খ্যাত।
স্থানীয়রা বলছেন, ইয়াবা আব্দুর রহমান এলাকায় যুবলীগ নেতা ও সিএনজি গাড়ির লাইন পরিচয়ে প্রশাসন ও মানুষের চোখে ধূলো দিয়ে সহজে তার ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। শূন্য থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া আব্দুর রহমান এর হাতে যেন আলাদীনের চেরাগ। তার রয়েছে নামে-বেনামে সম্পত্তি সহ রামু চৌমুহনী স্টেশনে ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে নেওয়া পশিংমল, মেসার্স পছন্দ স্টোর নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্টান। আরোও অনেক সিএনজি গাড়ি। প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল পাল্টিয়ে হাঁকিয়ে চলাফেরা করে কোটিপতি স্টাইলে।
স্থানীয় যুবলীগ নেতা এম,সেলিম জানান, একসময় এই আব্দুর রহমান এর দিন কাটতো অভাব-অনটনে, যার সংসারে ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। বিগত ৫/৭ মাস আগেও যার পকেটে ছিলনা একশত টাকা। আজ ইয়াবার বদৌলতে তার কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা। বনে গেছেন অঢেল সম্পত্তির মালিক। চলাফেরা করেন রাজকীয় স্টাইলে, হঠাৎ তার আলিসান জীবনযাপন দেখে প্রতিবেশীদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।
গোপন সুত্রে জানা যায়, তার এই মাদকের সিন্ডিকেটে রয়েছে তার আপন ভাই হাবিব সহ আরো অনেকে। যাদের মাধ্যমে দেশের আনাচে কানাচে পৌঁছে দিচ্ছে বিশাল আকারে ইয়াবার চালান। নাইক্ষ্যংছড়ির ফুলতলি ও কচ্ছপিয়ার মৌলভির কাটা সীমান্ত দিয়ে, মায়ানমারের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আব্দুর রহমান এর ইয়াবার চালানগুলো সীমান্ত অতিক্রম করে তার হাতে পৌঁছে দেন তার আরেক সহযোগী নুরু। সে কৌশলে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবার চালান আব্দুর রহমান এর দেওয়া স্হানে এনে রাখে। পরে আব্দুর রহমান বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবগুলো তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে তার গ্রাহকদের পৌঁছে দেন।
মৌলভির কাটা সীমান্তের একজন জানান, এই আব্দুর রহমান সীমান্তে ইয়াবার চালান আনতে গিয়ে কয়েকবার বিজিবির হাতে আটকও হয়েছিল। পরে কতিপয় জনপ্রতিনিধি তাকে মচলেকায় ছাড়িয়ে আনে।
এদিকে, তার এক সহযোগী ইয়াবাসহ বান্দরবান পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করতেছে। পুলিশের একটি সুত্র বলছে আব্দুর রহমান বর্তমানে মাদক মামলার আসামি। যার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার মামলা নং জিআর ৩৪/১৮। স্থানীয় অন্য একটি সুত্র বলছে, এলাকায় তাঁর অপকর্মের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কেউ সাহস পায় না প্রতিবাদের। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন প্রকার মামলা মোকাদ্দমা ও মারপিটের হুমকিধামকি দেয়। তথ্যনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তাঁর অপকর্মে যোগান দাতা এক জনপ্রতিনিধি। তাঁর সাথে উপজেলার ক্ষমতাসীন এক সিনিয়র নেতার সাথে রয়েছে সখ্যতা।
সচেতন মহল বলছেন, আবদুর রহমান দৃশ্যমাম মাদকের এজাহার ভুক্ত আসামী হওয়া সত্ত্বেও কোন অদৃশ্য কারণে গ্রেফতার হচ্ছেনা। তাই কেউ প্রকাশ্যে মুখ না খুললে ও গোপনে তাকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও এলাকার সচেতনমহল।
মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে, অভিযোক্ত আব্দুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি প্রতিবেদককে প্রতিবেদন না করে এক প্রকার আপোষের প্রস্তাব দেন, তা আবার স্ব শরীরে তার কথিত অফিসে এসে। কিন্তু প্রতিবেদক তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সে বিভিন্ন নেতার প্রভাব দেখিয়ে হুমকি দেন।
এই ব্যাপারে কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ইসমাইল নোমান জানান, ‘সে বিজিবির হাতে আটক হয়েছিল আমি তাকে এলাকার নাগরিক হিসেবে নিজ দায়িত্বে ছাড়িয়ে এনেছিলাম কিন্তু তার কাছে মাদক পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। বিভিন্ন লোকমুখে শুনতেছি সে নাকি মাদক ব্যবসায় জড়িত’।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ‘কিছুদিন পূর্বে আব্দুর রহমানকে সন্দেহ জনকভাবে আটক করা হয়েছিল কিন্তু তল্লাশী করার পর তার কাছে মাদক পাওয়া যায়নি, কিন্তু সে একজন মাদক ব্যবসায়ী সেটা আমরা জানি, তাকে আমাদের নজরে রাখা হয়েছে। আমরা কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেবনা অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসবে’।
গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে তার মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাচ্ছি, এবং তাকে আমাদের নজরদারিতে রেখেছি। মাদকের সাথে সম্পৃক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।সে যেই হোক আইনের আওতায় তাকে আনা হবে’।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রনয় চাকমা জানান, ওই আবদুর রহমান, মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে, লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, যুবলীগ নেতা এম, সেলিম।
এই ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও রামু।
ককসবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানান, এই ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।








