সিপ্লাস প্রতিবেদক: কবরস্থান ও মাদ্রাসার পাশের ভবনে ফ্ল্যাট ভাড়া করে গড়ে তোলা হয়েছে মদ তৈরির কারখানা। পুলিশের নজর এড়াতেই কবরস্থান ও মাদ্রাসার পাশে এই কারখানা গড়ে তোলা।
তৈরিকৃত দেশি মদ সহজে ও বেশি দামে নগরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করার জন্য এই কারখানায় আনাগোনা ছিল মাদক ব্যবসায়ীদের। শেষ পর্যন্ত রক্ষা হল না।
শনিবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচশাইশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বহদ্দারহাটের খতিবেরহাট এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও মদ তৈরির কারিগরসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার ৬ জনই রাঙামাটি জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- উচির দোয়াই মারমা (88), মাসাং মারমা (৪০), আইজিং মারমা (৩৩), যে মারমা (৪০), আছেমা মারমা (৩০) ও ইইয়ং মারমা (২০)।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) উত্তর বিভাগের এডিসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, খতিবেরহাটে চোলাই মদের কারখানা আবিষ্কার ও মদ তৈরির উপকরণসহ বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ জব্ধ করা হয়েছে। এ কাজে জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খতিবেরহাট এলাকায় মসজিদের পশ্চিম পাশে কবরস্থান ও মাদ্রাসার পিছনে একটি পাঁচ তলা ভবনের ৫ম তলায় দুটি ফ্ল্যাট থেকে ৭শ ৬ লিটার দেশিয় মদ উদ্ধার করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাঁচলাইশ জোনের এসি শহীদুল ইসলাম, উত্তর বিভাগের পরিদর্শক (ক্রাইম) মো. মোস্তাফিজুর ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো.কবিরুল ইসলাম।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, মসজিদের পশ্চিম পাশে কবরস্থান ও মাদ্রাসার পাশে একটি দুইটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ১ বছর ধরে মদ তৈরি করে আসছে তারা। ওই এলাকায় মানুষের চলাচলও বেশি ছিল। কবরস্থান ও মাদ্রাসার পাশের ভবন হিসেবে পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার জন্যই তারা ফ্ল্যাটগুলো বেছে নিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তৈরিকৃত মদ পলিথিন ও স্যালাইনের ব্যাগে করে নগরের লালখান বাজার, চকবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হতো। নগরের বিভিন্ন স্থানসহ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৈরিকৃত দেশিয় মদ ও মদ তৈরির উপকরণ সরবরাহকারী এবং মদের ক্রেতা-বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মদের কারখানা তৈরিতে সহায়তার জন্য ভবনের মালিক বা অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না, সেটা তদন্তাধীন। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।








