নিউজটি শেয়ার করুন

মানবাধিকার নেতা পরিচয়ে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাব সভাপতির কাছে চাঁদা দাবী

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি: সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সৌমিত্র চক্রবর্তীর কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে না পেয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে খোকন চন্দ্র নাথ (৫০) নামক এক প্রতারক।

মঙ্গলবার গভীর রাতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে সে এই হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মছজিদ্দা গ্রামের সতীশ মহাজন বাড়ির মৃত পরিমল চন্দ্রনাথের ছেলে খোকন চন্দ্রনাথ গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাব সভাপতি সৌমিত্র চক্রবর্তীর হোয়াটসআপ নম্বরে (০১৮১৯-৬১৭৫৭০) ফোন করে নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন, তার দপ্তরে সাংবাদিক সৌমিত্র চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শতাধিক অভিযোগ আছে। এখন তাকে ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে হবে। আর নচেৎ এরকম সাংবাদিককে মেরে ফেলতে তার সময় লাগবে না।

এ ঘটনার পর সাংবাদিক সৌমিত্র তার নিজের ফেসবুকে প্রতারকের নম্বর (০১৮৩১-৯৩২৬৭২) দিয়ে এর মালিকের সন্ধান চাইলে এলাকার বহু মানুষ তাতে সাড়া দিয়ে এই প্রতারকের নাম খোকন চন্দ্র নাথ এবং তার পরিচয়-ঠিকানা ইত্যাদি পাঠাতে থাকেন। শেষে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বুধবার বিকালে সৌমিত্র বিষয়টি সীতাকুণ্ড থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, হুমকিদাতা একজন প্রতারক বলে আমি নিশ্চিত হয়েছি। সে পল্লী চিকিৎসক হয়ে খাগড়াছড়ি এলাকায় এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দিতে গিয়ে গনধোলাইয়ের শিকার হয়ে পালিয়ে আসে। কুমিরায় নিজ এলাকায় নানান অপকর্মের কারণে গণধোলাইয়ের শিকার হয়। শেষে নিজেকে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে বিভিন্ন অযুহাতে দেখা করতে গিয়ে সেই ছবি দেখিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে।

এছাড়া এলাকার জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সামনের নির্বাচনে কেন্দ্রিয় লবিং ব্যবহার করে ইউপি চেয়ারম্যান বানানোর প্রস্তাব দিয়ে টাকা দাবী, এলাকায় শালিশী বৈঠকের নামে চাঁদা দাবীসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাসহ অনেককে নানান কথা বলে হুমকি ধমকি দিয়েছে সে। তিনি বলেন, সবশেষে আমার কাছে চাঁদা দাবী ও হত্যার হুমকির ঘটনায় আমি আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ বিষয়ে খোকন চন্দ্রের এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম চৌধুরী এবং বাঁশবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শওকত আলী জাহাঙ্গীর বলেন, এলাকায় সে প্রতারক হিসেবে পরিচিত। মানবাধিকারের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিই তার কাজ। ভুয়া এমবিবিএম ডাক্তার পরিচয় ও নারী কেলেঙ্কারীর জন্য সে পিটুনিও খেয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই খোকন চন্দ্র নাথের সম্পর্কে যতদূর জানা যাচ্ছে সে একজন বড় ধরণের প্রতারক। একদিন সে থানায় এসে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে স্যানিটারাইজ বিতরণ করবে বলে জানায় এবং তার অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাব সভাপতি সৌমিত্র চক্রবর্তীও আসবেন বলে জানিয়েছিলো। পরে সে একাই এসে এসব দেয়। আমার সাথে ছবি তুলে সে ছবিও তার আইডিতে ব্যবহার করছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে এ হুমকির প্রতিবাদ জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফোরকান আবু, এম হেদায়েত, এম সেকান্দার হোসাইন, বর্তমান সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here