সিপ্লাস প্রতিবেদক: মানহীন মেডিকেল ডিভাইস বিক্রি এবং আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক রেখে বিক্রির দায়ে চট্টগ্রামে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুকের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মানহীন ও ত্রুটিপূর্ণ থার্মাল স্ক্যানার, পালস অক্সিমিটার, স্ফিগমনিটার, ডায়াবেটিক টেস্টার, সার্জিক্যাল মাস্ক, স্যানিটাইজার, সুরক্ষা সামগ্রী বিক্রি এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লাইসেন্স না থাকায় পাঁচলাইশ এলাকার মুন্নি প্লাজার রওশন এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, তারা এসব মেডিকেল যন্ত্রপাতি আমদানির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি ইনভয়েসও নেই।
“এছাড়া একই যন্ত্র একই ব্যক্তির নমুনার ক্ষেত্রে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন রিডিং দিচ্ছিল। আমরা তা অভিযানের সময় পরীক্ষা করে প্রমাণ পেয়েছি। অক্সিজেন মাত্রা, ব্লাডপ্রেশার, পালস ও ডায়াবেটিক মাত্রা কয়েক ধরনের রিডিং পেয়েছি। যাতে প্রতীয়মান হয়, এগুলো নকল এবং যযন্ত্রগুলো আমদানিতে সরকারের অনুমোদন নেই।”
অভিযানে আন্দরকিল্লা এলাকার তাজ সার্জিক্যাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থ ও বিভিন্ন কেমিক্যাল রাখার প্রমাণ মেলে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, “যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। ফলে তাদেরকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয় ও সাত দিনের মধ্যে এগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্যে মুচলেকা নেওয়া হয়।”
অভিযানে এবি সার্জিক্যাল নামের প্রতিষ্ঠানটিতে মেডিকেল যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ৫০ হাজার টাকা এবং নিজেদের তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করায় একুশে সার্জিক্যালকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান বলেন, “করোনায় ব্যবহৃত পালস অক্সিমিটারসহ থার্মাল স্ক্যানারের মান ঠিক না থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্যে খুবই বিপদজনক। ভুল রিডিংয়ের কারণে মানুষের ডায়াগনস্টিক ঠিকমতো হচ্ছে না। ফলে ভুল চিকিৎসা নিয়ে মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে।”
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. বদিউল আলম বলেন, “মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি লাভে চেষ্টা করবে, তাদের আইনের আওতায় নিতেই আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

