নিউজটি শেয়ার করুন

মানুষের বিপদে পাশে থাকতে সুস্থ হয়ে ফিরতে চান পুলিশ শের আলী

নাম শের আলী। চাকরি করেন পুলিশের কনস্টেবল পদে। মানুষের যে কোনো বিপদে পাশে থাকেন সবসময়। চেষ্টা করেন সাধ্যমত সহযোগীতা করতে। এর জন্য পেয়েছেন সরকারের পক্ষ থেকে পিপিএম পদকও। বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও দিয়েছেন অ্যাওয়ার্ড।

সময়ের আলোচিত এ ব্যক্তিটি দীর্ঘ দুই মাস ধরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের বেডে। হাঁটা-চলা করতে পারছেন না পুরোপুরি। বর্তমানে ভর্তি আছেন রাজধানীর কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে। অসুস্থতাজনিত কারনে আছেন ছুটিতে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় চাকরি করেন শের আলী। তার বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলায়।

আলোচিত বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রবাহে শের আলীকে খুব কাছ থেকে দেখেছে মানুষ। তন্মধ্যে ২০১৬ সালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার পানিরছড়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে অন্যদের সঙ্গে একটি শিশুও গুরুতর আহত হয়। সেদিন শের আলী ছুটিতে ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করেন তিনি। এরপর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রক্তাক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করার পর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য দৌড়ানো শুরু করেন শের আলী। শিশুটিকে বুকে চেপে চিৎকার করতে করতে দৌড়াচ্ছিলেন তিনি। তখন এক সাংবাদিক শের আলীর ছবি তোলেন। মূহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই দৃশ্যটি।

শের আলী জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে বাস দুর্ঘটনার পর শের আলীর সেই আলোচিত ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন প্রথম আলোর চকরিয়া প্রতিনিধি এস এম হানিফ। তার আগে দুর্ঘটনার পরপরই যমুনা টেলিভিশনের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ইমরুল কায়েস তার ছবি তুলেছিলেন। সেখান থেকে কিছু ছবি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন এস এম হানিফ। যা মূহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।

২০০৫ সালের দিকে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন আলী আহমদ সওদাগর নামে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী। ছিনতাইকারীরা তাঁকে ফেলে চলে যায়। তখন শের আলী এই ব্যবসায়ীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ব্যবসায়ীর মুঠোফোন থেকে ফোন করে পরিবারকে খবর পাঠান শের আলী। পরে আলী আহমদ সওদাগর শের আলীকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শের আলী টাকা না নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

তিনি জানান, এখনো মাঝেমধ্যে ফোন করে আমার খবর নেন আলী আহমদ সওদাগর। আমি মানুষের জন্য কিছু করলে প্রতিদান চাই না। মানুষ আমাকে ভালোবাসে, এটাই বড় কথা। আমার তো মনে হয়, মানুষ দোয়া করছে বলেই আমি আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাচ্ছি। এখন একটু একটু হাঁটতে পারি।’

জানা যায়, ২০১১ সালে কোমরে ব্যথা পান শের আলী। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তাঁর কোমরের দুটি হাড় বেড়ে গেছে। ফলে শিরায় চাপ পড়ত, বাঁ পা অবশ লাগত। এরপর বিভিন্ন সময়ই এ ব্যথায় কাবু হতেন শের আলী। ব্যথার কারনে চলতি বছরের পহেলা আগষ্ট প্রথমে চট্টগ্রামের বিভাগীয় হাসপাতালে ভর্তি হন শের আলী। পরে গেল মাসের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যান। চিকিৎসা চলছে।

মানুষের বিপদ দেখলে বসে থাকতে পারেন না শের আলী। নিজের সাধ্যমতো কিছু করার চেষ্টা করেন তিনি। আর সে কারণেই ২০১৭ সালে শের আলী পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে এ পদক নিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেই হাসপাতালে দৌড়ান শের আলী। কোনো না কোনোভাবে শের আলীর সহায়তা পাওয়া মানুষগুলো চট্টগ্রাম ও বর্তমানে ঢাকায় হাসপাতালে তাঁকে দেখতে এসেছেন। শের আলীর সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে শের আলীর জন্য দোয়া চেয়েছেন এই মানুষগুলো।

শের আলী বলেন, মানুষের বিপদে পাশে থাকতে পারাটা সৌভাগ্যের। সবাই, এ মহৎ কাজ করার সৌভাগ্য হয় না। আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও সবার মাঝে ফিরে আসতে পারি। মানুষের জন্য যেন কিছু করার তৌফিক আল্লাহ আমাকে দেন।