লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে মায়ের কবরের পাশে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর মোহাম্মদ মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বীর বিক্রম পিএসসিকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
১৯ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে।সাথে ছিলেন স্ত্রী ও মেয়ে। তখন চুনতি গ্রাম শোকে স্তব্ধ, হাজারো জনতা বাংলাদেশের বীর, লোহাগাড়ার সূর্য সন্তানকে একনজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।
১৩ একর আয়তনবিশিষ্ট ঐতিহাসিক চুনতি সিরাত ময়দানে তার শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জয়নুল আবেদীন ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি সিকদার পাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯বছর । বাবা মরহুম ইসহাক মিয়া চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি প্রথম লেখাপড়া শুরু করেন চুনতি হাকিমিয়া আলিয়া মাদ্রাসায়। ১৯৭০ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৯৫-৯৬ সালে গোলযোগপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রামের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বুদ্ধিমত্তা ও বহুমুখী প্রতিভা বিচক্ষণতায় জটিল ও কঠিন সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত হন।
এই সেনা কর্মকর্তা ২০১১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি এলাকায় তাঁর মা-বাবা স্মরণে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও চুনতি পানত্রিশা এলাকায় নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া চুনতিসহ লোহাগাড়ার উন্নয়নে অনেক অবদান রেখেছেন।
তিনি গত ৯ ডিসেম্বর চুতর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের চাকরির মেয়াদ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনও জারি করেছিল।
মৃত্যুকালে তিনি দুই কন্যা, স্ত্রী, অনেক আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।








