নিউজটি শেয়ার করুন

মিরসরাইয়ে সম্পত্তির দ্বন্দ্বে বাবা-মা,ভাইকে খুন করল বড় ছেলে!

খুনী বড় ছেলে সাদ্দাম!
ছবি: সিপ্লাসবিডি.নেট

সিপ্লাস প্রতিবেদক: মূলত বাড়ির চার শতক জায়গা নিয়ে ক্ষোভে মা-বাবা ও ভাইকে হত্যা করেছে পরিবারের বড় ছেলে সাদেক হোসেন সাদ্দাম। ১৫ দিন  ধরে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম শহরের বায়েজিদ এলাকা থেকে বুধবার সকালে একটি ছুরি কিনে বাড়িতে যায়।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৪টার দিকে সবাই যখন গভীর ঘুমে, তখনই মা-বাবার কক্ষে ঢুকে সাদেক হোসেন। ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে ধারাল ছুরি দিয়ে কোপাতে থাকে সে। এরপর মাকে। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মা-বাবাকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। মা-বাবার আর্তচিৎকার শুনে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা মেঝ ভাই আহমদ হোসেন ছুটে আসে। তখন আহমদ হোসেনকে জাপটে ধরে তার গলায়ও ছুরি চালায় সাদ্দাম। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন।

নিহতরা হলেন, স্থানীয় নতুন বাজারের মুদি ব্যবসায়ী নুরুল মোস্তফা সওদাগর (৬০), তাঁর স্ত্রী জোসনা আক্তার (৫০) ও তাদের মেজ ছেলে আহমদ হোসেন (২৫)।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক হোসেন সাদ্দাম তার বাবা, মা ও ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

বাবা-মা ও ভাইকে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই সাদেক হোসেন প্রকাশ সাদ্দামকে (৩০) একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছে ছোট বোন বিবি জুলেখা।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) জোরারগঞ্জ থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

থানায় মামলা দায়ের: শোকের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

এদিকে শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) বাদ জুমা উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ছুটি খাঁ জামে মসজিদের সামনে মানববন্ধন করেছে নিহতের স্বজন, বাজার ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী। সাদেক হোসেন সাদ্দামের ফাঁসির দাবিতে এ মানববন্ধন করা হয়।

একসাথে এভাবে এক পরিবারের তিনজনকে উপর্যপুরি চুরিকাঘাতে হত্যার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেনা এলাকাবাসী। পুরো এলাকায় শোকের পাশপাশি মানুষকে উদ্বিগ্ন দেখা গেছে। তারা আর কোথাও এমন ন্যাক্কাজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় এজন্য দেশের আইন-আদালতের কাছে ঘাতক সাদ্দামের সর্বচ্চো শাস্তি দাবী করেছেন।

শুক্রবার দুপুর ২ টায় ছুটিখাঁ জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে উপস্থিত সকলে ঘাতক সাদ্দামের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করেন।

পুলিশের কাছে সাদ্দামের জবানবন্দিমূলক স্বীকারোক্তির পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছেন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মোহাম্মদ লাবিব আব্দুল্লাহ ও জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর হোসেন মামুন।

বসত ভিটার ১২ শতক জায়গার মধ্যে ৪ শতক মোস্তফা লিখে দেন তার মেজ ছেলে আহম্মদ হোসেনকে। হত্যার প্রধান কারণ এটি। বাবার শরীরে ছুরি দিয়ে ২২টি কোপ দেয়। মায়ের শরীর বিক্ষত হয় ২৩টি কোপে!

সবাইকে খুন করার পর সে ঘরের ছাদে উঠে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে এলাকাবাসী তার আওয়াজ শুনে ছুটে আসে।

এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, একদম ছোটবেলা থেকে আশপাশে যাদের দেখতে দেখতে বড় হয়েছি, তাদের মধ্যে কেউ এমন নিষ্ঠুরভাবে খুন হয়ে গেলে তা কারোরই ভালো লাগার কথা না। পরিবারের বড় ছেলেটিই তার মা-বাবাকে খুন করেছে; যারা তাকে পৃথিবীর মুখ দেখিয়েছিল।

যে ছোট ভাইটি তাকে ভাইয়া বলে ডেকে ডেকে বড় হয়েছে, সেই আদরের ভাইটিকেও রক্তাক্ত করে খুন করলো। এখন পর্যন্ত সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা সংক্রান্ত পারিবারিক কলহের জের ধরে এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড বলে শুনছি। জানিনা এর পেছনে আরও কোনো কারণ থাকতে পারে কি না। তবে যত কারণই থাকুক, নিস্তব্ধ গভীর রাতে (হয়তো) ঘুমের ঘোরে মা-বাবা ও ভাইকে এভাবে খুন করা যায়? আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের বন্ধনটা কবে থেকেই নড়বড়ে হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। এখন এর রক্তাক্ত পরিণতি দেখতে হচ্ছে!

এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, মাহমুদ হাসান বলেন, এমন ঘটনা আগে পত্র-পত্রিকায় দেখেছি। কিন্তু আজ বাড়ির পাশে একসাথে তিনজনকে খুন করার ঘটনা দেখেছি। সম্পত্তির জন্য নিজের ছেলে কিভাবে মা-বাবা ও ভাইকে খুন করতে পারে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here