নিউজটি শেয়ার করুন

মুক্তিযোদ্ধা এ.কে ফজলুল হক চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শীতবস্ত্র বিতরণ

ক্যাপশান : মুক্তিযোদ্ধা এ.কে ফজলুল হক চেয়ারম্যানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শীতার্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরসহ অন্য অতিথিবৃন্দ।
সাংবাদিক-চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবাধিকার সংগঠক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ‘জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রেসক্রিপশন তথা ব্যবস্থাপত্র তৈরী করতে হবে। আর এ প্রেসক্রিপশনে থাকবে বহুমাত্রিকতা। থাকবে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতিসহ সর্বস্তরে জঙ্গিবাদ নির্মূলের কর্মকান্ড। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তা কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স-এর বিষয়টি এখন বিশ্বব্যাপি প্রশংসিত হচ্ছে। তবে জঙ্গিবাদ দমনে সত্যিকার অর্থে সুদূর প্রসারি কোন পরিকল্পনা এখনও নেয়া হয়নি। তাই জঙ্গি তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না’।
মানবতার সামগ্রিক কল্যাণের আদর্শ ‘ধর্ম’কে জামাতীরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে মতলবি রাজনীতির স্বার্থে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদে বিশ্বাসীরা যে ইসলাম ধর্মের প্রচার করছে, তার বিরুদ্ধে সত্যিকারের ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে হবে। ইসলাম যে কখনোই নির্বিচারে মানুষ হত্যাকে সমর্থন দেয় না-তা সর্বসাধারণকে অবহিত করতে হবে। তাহলেই জঙ্গিবাদ দমনে দৃশমান সাফল্য আসবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, রাউজান থানা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, ১১নং পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং যুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনী প্রধান, রাউজানে সমবায় আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মুক্তিযোদ্ধা এ.কে ফজলুল হক চেয়ারম্যান-এর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শীতার্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজ, সংস্কৃতি, উন্নয়ন, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সংগঠন আমরা করবো জয় (ডাব্লিউএসও)-এর সার্বিক সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধা এ.কে ফজলুল হক স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ৬ জানুয়ারি অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আবৃত্তিশিল্পী ও গবেষক ডালিয়া বসু সাহা, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাঙামাটি জেলা সভাপতি সাংবাদিক সুনীল দে, সহ-সভাপতি টুকু তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা নির্মূল কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক মো. অলিদ চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রুবা আহসান, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সূচিত্রা গুহ টুম্পা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাজীব চৌধুরী প্রমুখ।
মরহুমের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহিত ধারাবাহিক কর্মসূচির এ আয়োজনে পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মরহুমের সুযোগ্য সন্তান একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ৮ম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি।
জননেতা রহমতউল্ল্যা চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় রাজাকারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা ত্রুটিপূর্ণ। রাজাকারের তালিকায় কোনও মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কারও নাম যুক্ত করা গুরুতর অপরাধ। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনা কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানই করা নয়, বরং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক গোটা জাতিকে অপমান করা। তাও আবার বিজয়ের মাসেই এমন ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘শুধু আমলাদের হাতে এ ধরনের গবেষণার কাজ ছেড়ে না দিয়ে এই কাজে যুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের যুক্ত করতে হবে।’ প্রত্যেক জেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা যেসব বই প্রকাশ করেছি, সেখানেই তো রাজাকারদের তালিকা রয়েছে।’