নিউজটি শেয়ার করুন

মুসলিমদের বদনাম করতে টুপি আর লুঙ্গি পরে ট্রেন ভাঙচুর, ৬ বিজেপি কর্মী আটক

টুপি আর লুঙ্গি পরে ট্রেনে পাথর ছোঁড়া! বিজেপি কর্মী-সহ ছ’জনকে হাতেনাতে ধরলেন স্থানীয়রা।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে এরাজ্যে অনেক আগেই অশান্তি দানা বেঁধেছিল। কিন্তু কড়া হাতে তা দমনের কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্তিপূর্ণ।

কিন্তু ঝাড়খণ্ডের সভা থেকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘পোশাক দেখেই বোঝা যায়, কারা হিংসা ছড়াচ্ছে।’ তাঁর মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দিকেই। কিন্তু সেই ঘটনার রেশ মিটতে না মিটতেই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে যা ঘটল, তাতে বিজেপির অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে কয়েকগুন। ফেজটুপি আর লুঙ্গি পরে ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগে এক বিজেপি কর্মী ও তার পাঁচ সঙ্গীকে আটক করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার সময় তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বাসিন্দারা ছ’জনকে শিয়ালদহ-লালগোলা লাইনের ট্রেনে পাথর ছোঁড়ার সময় রাধামাধবতলার স্থানীয় বাসিন্দারা ৬ জনকে হাতেনাতে ধরে। তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, আটকদের মধ্যে অভিষেক সরকার (২১) একজন বিজেপি কর্মী ও তাঁর পাঁচ সঙ্গী রয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে রাষ্ট্রপতির শিলমোহর পড়তেই প্রথমে উত্তর-পূর্ব, তারপর বাংলায় অশান্তি দেখা দেয়। মুর্শিদাবাদ, হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় ট্রেন পোড়ানো, রেলস্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাগুলিতে বিজেপি নেতারা বারবার ‘ফেজটুপি, লুঙ্গি’র কথা বলে নির্দিষ্ট একটি দিকেই আঙুল তাক করতে শুরু করেন। কিন্তু তারপর মুর্শিদাবাদে যখন বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি ঘটল, তখন মুখ পুড়ল তাঁদেরই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই বিষয়ে অভিযোগ করেন। জানান, মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি ফেজটুপি কিনছে বলে খবর আছে। সেই টুপি কী কাজে লাগবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।