সাক্ষাৎকার: দিচ্ছেন ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্য ও মুলধারার রাজনীতিবিদ খোরশেদ খন্দকার
প্রশ্নঃ ১। যুক্তরাষ্ট্রের এবারেরনির্বাচন কেমন হবে, মনে করেন?
উত্তর: আমেরিকার দীর্ঘদিনের গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবারের ২০২০ নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রম নির্বাচন হতে চলেছে। স্বাভাবিক নির্বাচনের মত মহামারীর কারণে ভোটাররা ইচ্ছামত ভোট কেন্দ্রে যেতে পারছে না। ভোট যেমনই হউক ভোট কেন্দ্রে গিয়া বুথ এ ভোট প্রদান করার তৃপ্তি-ই আলাদা। করোনা মহামারীর কারণে আমেরিকান নাগরিকদের মেইলিং ভোট দেওয়ার আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার একটি চক্র মেইলিং ভোট ̧লো নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে তবে আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই হবে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময়ওনির্বাচন ঠিক সময়ে ঠিকভাবেই হয়েছিল। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম দিকে করোনা মহামারীকে চায়না ভাইরাস বলে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে দুই লাখ ২৫ হাজারআমেরিকান এর মৃত্যু হয়েছে সবশেষে ট্রাম্প নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে হোয়াইট হাউজে ফিরে এসে বলেছেন করোনাকে ভয় করো না তিনি করোনা থেকে অনেক কিছু শিখেছেন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এইজন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছেন।তিনিই একমাত্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি যিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সুস্থতা দাবী করে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন, করোনা সংক্রামন ক্রমেই বেড়ে চলেছে এই কারণেই এইবারে মেইলিং ভোটই সবাইর জন্য নিরাপদ মনে করি।

প্রশ্ন: ২। প্রার্থী হিসাবে জো-বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর ভাইস প্রেসিডেন্ট জোবাইডেন এর মধ্যে প্রার্থক্য হলো ট্রাম্প একজন পেশাদার ব্যবসায়ী, জো-বাইডেন একজন সুদক্ষ রাজনীতিবিদ, একজন ব্যবসায়ী ব্যবসাতে সফল হতে পারেন কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কখনো সফল হতে পারেন না, যার প্রমাণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই, রাজনীতিবিদ হিসাবে বাইডেন রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হবে এটি আমাদের বিশ্বাস। আমরা জানি আমেরিকান রাজনীতিবিদরা সহজে মিথ্যা কথা বলেন না কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আচরণ ও মিথ্যা বলার কারণে আমেরিকানরা ট্রাম্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, মানুষ ভুলে যাই নাই ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসাবে মেয়াদের ৩ বছর শেষে ফ্যাক্ট চেকার ডাটা বেজ বিশ্লেষণ করে ওয়াশিংটন পোষ্ট জানিয়েছে ট্রাম্প ৩ বছরে প্রকাশ্যে যেসব কথা বলেছেন তারমধ্যে ১৬ হাজার ২৪১টি কথা মিথ্যাচার, অবাস্তবতা ও বিভ্রান্তিতে ভরপুর ছিল। তিনি প্রথম তিন বছরের মধ্যে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশী মিথ্যা বলেছেন, ২০১৯ সালে নাকি তাঁর মিথ্যা বলার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৫৫টি এর আগের ২ বছরে মোট মিথ্যা বলেছিল ৮ হাজার ৬৮৮ বার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এমন একজন প্রেসিডেন্টকে আমেরিকান জনগণ বিশ্বাস রাখে না ট্রাম্পকে আবার পুনঃ নির্বাচিত করতে, তাছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী হিসেবে ট্যাক্স দেন ৭৫০ ডলার মাত্র অথচ নিউইয়র্কে রাস্তার একজন ফুড ভেন্ডার ব্যবসায়ী তাঁর চেয়ে বেশী ট্যাক্স দেন এ লজ্জা কার?
প্রশ্ন: ৩। সারা বিশ্বে রাজনীতির পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে ধর্ম ও বর্ণ দিয়ে আমেরিকায় রাজনীতি শুরু হয়েছে কেন?
উত্তর: আমেরিকান গণতন্ত্র, ধর্ম নিরেপক্ষ, বর্ণ বৈষম্য মানবাধিকার সারা বিশ্বের জন্য মডেল, এদেশে এসে সেই ধর্ম নিরপেক্ষতার সুফল আমরা নিজেরাও ভোগ করেছি দেখুন করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আমরা ম্যানহাটন মিড টাউন মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন সংলগ্ন একটি খৃষ্টানদের গির্জায় জুমার নামাজ আদায় করতাম যদিও এখন মহামারীর কারণে বন্ধ রয়েছে এমন একটি ধর্মীয় স্বাধীনতার দেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রথম পদক্ষেপেই যেই কাজটি করেছেন মুসলিম বেন করলেন, তাঁর এইসব কর্মকান্ডে ইসরাইল ও উৎসাহিত হয়ে মুসলমানদের তীর্থস্থান পবিত্র জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তানীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ২০০০ সালে নাইন ইলেভেন এর ঘটনার পর কিছুটা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ালেও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মাঝে ঘৃণা, আতঙ্ক, বিবেদ আরো বেশী ছুড়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র ট্রাম্পের অপরিপক্ষ রাজনীতির কারণে আজ বিশ্ব রাজনীতিও চ্যালেঞ্জের মুখে।

প্রশ্ন: ৪। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন পরে বর্ণবাদের জন্য দায়ী কে?
উত্তর: বর্ণবৈষম্য ও হোয়াইট সুপ্রীমেসি আমেরিকার মূল চেতনা ও গণতন্ত্র আজ ভীষণ ঝুকির মধ্যে পড়েছে। ৩০ কোটি আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সামনে আগামী ৩ নভেম্বর নির্বাচন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
ট্রাম্পের বর্ণবাদী বক্তব্য “Black Live Matter” আন্দোলনে সর্বশ্রেণীর মানুষ রাস্তায় নেমে সমর্থন জানাইয়েছে, জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প এখনো কোন দুঃখ প্রকাশ করেননি এবং সমাধানের কোন পথ দেখাননি, বর্ণবাদের পুরো দায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই নিতে হবে।
প্রশ্ন:৫। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে জিতবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেন্ট কমিউনিটির কে উপকারে আসতে পারে?
উত্তর: প্রথমত ভাইস প্রেসিডেন্ট জোবাইডেন প্রো-ইমিগ্রেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এন্টি ইমিগ্রেন্ট, ট্রাম্পের ইমিগ্রেন্ট বিরোধী অবস্থান এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মেক্সিকো থেকে আসা সকল ইমিগ্রেন্টদেরকে আতংকের মধ্যে দিন যাপন করতে হচ্ছে ওবামার ‘ডাকা’ কর্মসূচী ও কোনরকম আলোর মুখ দেখছে না ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে, ট্রাম্প নির্বাচিত হলে ইমিগ্রেন্টদের এদেশে বসবাস করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাদের চিকিৎসা ও শিশুদের পড়া-লেখার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। তাই একটি হিংসা বিদ্বেষমুক্ত আমেরিকা গড়ে তুলার লক্ষ্যে আমেরিকার বিশার জনগোষ্ঠী ট্রাম্প মুক্ত আমেরিকা চাই। বাইডেন খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলে অপরদিকে ট্রাম্প ধনীদের ̄স্বার্থ দেখে, আর আমেরিকাকে দ্বিধাবিভক্ত করে সরা বিশ্ব থেকে একঘরে করে রাখে। আমার বিশ্বাস বাইডেন আমেরিকানদের মধ্যে একতা ও বিশ্বে কুটনৈতিক সর্ম্পক আরো জোরদার করে আমেরিকার গণতন্ত্রের হারানো ভাবমূর্তি আবারও ফিরিয়ে আনবে। আমি নিজেও একজন গর্বিত রেজিষ্টার্ড ডেমোক্রেট তাই বলবো আমেরিকার এই দুঃসময়ে জো বাইডেনের মত একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ দরকার। সর্বশেষ প্রশ্ন ছিল কে জিতবে সোজা উত্তর ভোটের মাধ্যমে জো বাইডেন জিতবে, ২০১৬ সালের মত রাশিয়া হস্তক্ষেপ এর সুযোগ থাকলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জিতবে।








