সিপ্লাস ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল মেয়ে নিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটানোর একটি ভিডিও দেখা যায়।

গত (৫ নভেম্বর) নগরীর আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের আবাসিক হোটেল নিউ স্টারে এক তরুণীকে নিয়ে যান এ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল
ভিডিওতে দেখা যায়, রেজাউল হক রুবেল প্রথমে হোটেলটির অভ্যর্থনা কক্ষে আসেন। তার পেছন পেছন এক তরুণীকে আসতে দেখা যায়। তারা দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একই ফরম পূরণ করেন। ফরম পূরণ শেষে পাশে থাকা নারীকে দিয়ে রুবেল স্বাক্ষর করান। স্বাক্ষর শেষে হোটেলের নির্ধারিত ৩০২ নম্বর কক্ষে যান নারী। রিসিপশনে টাকা দেয়ার পর রুবেলও ওই নারীর পেছন পেছন দ্রুত যেতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ওই নারী বেরিয়ে আসেন কক্ষ থেকে। এরপরে বেরিয়ে আসেন রুবেলও। তারা সিঁড়ি দিয়ে একসঙ্গে নামলেও দুই জন আলাদা হয়ে বেরিয়ে যান হোটেল থেকে। রুবেল সতর্কভাবেই ওই হোটেলে প্রবেশ করেন। প্রথমে তিনি একা আসেন। এরপর আসেন ওই নারী। বের হওয়ার সময়ও তারা পৃথক পৃথকভাবে বেরিয়ে যান।
এদিকে হোটেলে পূরণ করা ফরমে সব তথ্যই ভুল দেন রুবেল। ওই ফরমে ছাত্রলীগ সভাপতি রুবেলের নাম লেখা হয়েছে রাহুল হোসেন (৩৫)। এছাড়া পিতার নাম লেখা হয়েছে আব্দুল আলিম ও মাতার নাম রাহেলা আক্তার। রুবেলের বাড়ি ফেনী জেলায় হলেও স্থায়ী ঠিকানা লিখেছেন তিনি দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া, কুমিল্লার বাসিন্দা। এছাড়া একই ফরমে তরুণীর নাম লেখা আছে সোহানা আক্তার (২৫)। এছাড়া তারা দুজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় উল্লেখ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যদি ওই নারী রুবেলের স্ত্রী কিংবা বোন হয়ে থাকেন তাহলে রুবেল আলাদাভাবে প্রবেশ করতেন না। আলাদা হয়ে বেরও হতেন না। কিন্তু শুধুমাত্র ফরম পূরণের সময়ই তাদের একত্রে দেখা গেছে। আবার নিজের বোন বা স্ত্রী হলে তিনি কখনোই মিথ্যা তথ্য দিতেন না হোটেলে পূরণ করা ফরমে।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জন্যই কেবল নয়, এই ঘটনাটি গোটা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্যই বিব্রতকর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিবারের প্রতিটি কর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষীর জন্যও বিব্রতকর।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখার সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ‘আমার বোন ঢাকা থেকে আসছিল। আমি আমার বোনকে নিয়ে হোটেলে গিয়েছি। হোটেলের রুম ভাল না হওয়াতে আমি আবার চলে আসি।’ ‘আমি ছাত্রলীগ নেতা হয়েছি বলে কি মা-বোনকে নিয়ে চলাফেরা করতে পারবো না। এই রকম হলে তো আমার মা-বোনদের সাথে চলা বন্ধ করে দিতে হবে। আর যারা ভিডিও ফুটেজ নিয়েছে তারা অন্যায় করেছে।’








